রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের হযরত আলীর কন্যা সাবিনা ইয়াসমিন মিতু কর্তৃক জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেছেন। মামলার বিবরণে জানা গেছে, মিতুর স্বামী রংপুর কোতোয়ালি মেট্ট্রো দেওডোবা বানিয়া পাড়ার মজিবুল হকের ছেলে আকরাম হোসেন মাইনুল স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা দায়ের করে। ২২ জুন সাবিনা ইয়াসমিন মিতুকে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে। ৩০ জুন শর্ত সাপেক্ষে মিতুর জামিন মঞ্জুর করেন বিজ্ঞ আদালত। জামিন পেয়ে স্মামী আকরাম হোসেন মাইনুলকে বিভিন্ন হুমকিসহ ও এলাকার লোকজন দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করতে থাকে। এ ঘটনায় রংপুর কতোয়ালী থানায় মাইনুল জিডি করেন। জিডি নং ৯৩। গত ১০ আগস্ট রংপুরে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মাইনুল। কাবিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি ও পুলিশের বীট কর্মকতা এসআই নুর আলম মন্ডল জানান, সাবিনা ইয়াসমিন মিতু দেখতে সুন্দরী। বিভিন্ন ছেলেদের সাথে অবাধে মেলামেশার গুঞ্জণ রয়েছে এলাকায়। এ কারণে সাবিনার একাধিক বিয়ের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ মোবাইলে পরিচয়ে প্রেমে পড়ে মাইনুলকে বিয়ে করে। আলিশান বাড়ী, গহণাসহ নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়। এদিকে পূর্বের তালাকপ্রাপ্ত স্বামী মিথুন মিয়ার বিরুদ্ধে জেলা রংপুরের বিজ্ঞ পারিবারিক আদালতে (পারি ১২/১৯ নম্বর) মামলা দায়ের করে। অপর তালাকপ্রাপ্ত স্বামী সারোয়ার হোসেনের নিকট হইতে নগদ দেনমোহরানা গ্রহণ করে ওই স্বামীকেও তালাক দেন সাবিনা ইয়াসমিন মিতু। পরকিয়ার অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ২ আগস্ট ময়নুল সাবিনাকে তালাক দেয়। পরবর্তীতে পুণরায় মিতুর পরিবারের লোকজন অনুরোধ করলে ১১ আগষ্ট’২০২১ইং তারিখে রেজিষ্ট্রির কাবিননামা মুলে আবারও বিবাহ হয়। মিতু সংশোধন না হলে ২০ মার্চ’২০২২ আবারও তাকে তালাক প্রদান করেন। এ প্রসঙ্গে আকরাম হোসেন মাইনুল বলেন, আমি সহজ সরল প্রকৃতির মানুষ। সাবিনার প্রেমের ফাঁদে পড়ে, বিয়ে করে অর্জিত সম্পদ হারিয়ে নি:স্ব হয়েছি। পরকিয়া, অর্থলোভী এবং দুঃশ্চরিত্রার কথা জানতে পেরে রংপুর জজ কোর্টে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। সিআর-৫৭৮/২২, ধারা- ৪২০,৪০৬, ১০৯। বৃহস্পতিবার সাবিনা ইয়াসমিন মিতু রংপুর জজ কোর্টে হাজিরা দিতে আসলে বিজ্ঞ চীফ মেট্রো ম্যাজিষ্ট্রেট তাকে জেল-হাজতে প্রেরণ করে।