খুলনার পাইকগাছায় লস্কর ইউনিয়নে জায়গা-জমি জোর পূর্বক দখলে বাঁধা দিলে প্রতিপক্ষের হামলা ও মারপিটে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৩জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। পুলিশ একজনকে আটক করেছে। হামলা ও মারপিটের ঘটনায় হিন্দু পরিবারগুলির মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে সোমবার সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবু ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার ইকবাল মন্টু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত আহতদের দেখতে যান। তাদের চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নেন। এমপি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা প্রদান করেন। এলাকাবাসী ও আহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ঠাকুরনবাড়ি চক এলাকার রঞ্জিত সরদার ও কুঞ্জ সরদার গংদের প্রায় দেড় যুগ ধরে ভোগদখলে থাকা জমিতে রোববার সকাল ৯ টার দিকে ক্রয় সূত্রে দাবিকৃত মোজাম কাগজী ও মজিদ কাগজী গংরা জোর পূর্বক জমি দখলে নেওয়ার চেষ্ঠা করে। এ সময় রঞ্জিত সরদার গংরা বাঁধা দিলে প্রতিপক্ষের হামলায় ঠাকুরনবাড়ীর কুঞ্জ সরদার (৬০), জয়ন্তী সরদার (৫২), মঙ্গল সানা (৫০), যমুনা সানা (৩৫), প্রভাষ সানা (৪২), রনজিৎ সরদার (৫৫), কলেজছাত্রী চুমকি সানা (১৮), লতা সরদার (১৮), রামপ্রসাদ সরদার (৪০), শ্যামলী (৩৫), পারুল (৫৫), বিশ্বনাথ সানা (৪৫) ও ব্রজেন সরদার (৩৫) গুরুত্বর আহত হন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কুঞ্জ সরদার জানিয়েছেন, বসতবাড়ী সংলগ্ন ৩একর জমি বংশানুক্রমে আমরা কয়েকটি পরিবার ভোগ দখল করে আসছি। সম্প্রতি লক্ষীখোলার মজিদ কাগজী, অজিয়ার কাগজীরা ক্রয়সূত্রে এ সম্পত্তি দাবী করে আসছেন। কুঞ্জ সরদার, মঙ্গল ও যমুনা সানা দম্পতি অভিযোগ করেন, রোববার সকালে ৩৫-৪০জন লোক জমিতে এসে বাসা বেধে জায়গা দখল করার চেষ্টা করেন। বাঁধা দিলে লাঠিসোটা, হাঁতুড়িপেটা করে কুঞ্জ সরদার দম্পত্তিসহ ১৩ জন নারী-পুরুষ আহত করেন। এদিকে মাথায় রক্তক্ষরণের কারণে গুরুত্বর আহত অবস্থায় বিকালে কুঞ্জ সরদার, জয়ন্তি রানী, রামপ্রসাদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে খুলনায় চিকিৎসাধীন জয়ন্তি রানীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন যমুনা রানী সানা ও মঙ্গল সানা। থানার ওসি মো. জিয়াউর রহমান জিয়া জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় সুমন কাগজী বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি এবং শিউলী রানী সরদার বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওসি আরো জানিয়েছেন শিউলি রানীর দায়ের করা মামলায় এজাহার নামীয় আজিজুল সরদার নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঠাকুরনবাড়ী এলাকায় হিন্দু পরিবারগুলির মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।