খুলনার পাইকগাছায় শান্তির বাণিজ্যিক উপশহর কপিলমুনি কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অশান্ত হচ্ছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের একাধিক গ্রুপ মাঠে আধিপত্য জানান দিচ্ছে। ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্ম করে চলেছে। ছাত্রলীগ বা বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কেউ এর সঙ্গে জড়িত নয়। নিজের শক্তিকে প্রভাবিত করতে আ.লীগের নাম ব্যবহার করছে এসব কিশোরা। ১২ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোরদের একাধিক গ্রুপ বিভিন্নভাবে ভাবে বিভক্ত হয়ে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে দলবেঁধে হামলা চালাচ্ছে। যার ফলে হয়রানির শিকার হচ্ছে অভিভাবকসহ স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা। একাধিক অভিযোগে জানা গেছে, কপিলমুনি কয়েকটি কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচার-নির্যাতন নজিরবিহীনভাবে বেড়ে চলেছে। সকাল থেকে শুরু করে দলে দলে বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নিচ্ছে তারা। তাদের হামলায় আহত হচ্ছে পথচারীরা। সেই সাথে কার দলে কত জন আছে তা জানান দিতে দিনরাত চলে মহড়া। রীতিমতো মাস্তানীবেশে ও বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন পূর্বক প্রকাশ্যে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমতাবস্থায় বিষয়টি প্রশাসনের নিষক্রিয়তাকে দায়ী করছেন অভিভাবকসহ এলাকাবাসী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কপিলমুনির কলেজ রোড, বালির মাঠ, বাইপাস সড়ক, গোলাবাটি মোড়, কপিলমুনি নিকারী পাড়া মোড়, মাহমুদকাটি, পুলেরমাথা কালবার্ট, রেজাকপুর মসজিদ ও তালতলা ব্রিজ স্পটের অন্যতম। সকালে স্কুল কলেজগামী ছাত্রীদের টার্গেট করে গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে চলছে এদের মিলনমেলা। এরপর দলবেধে বিভিন্ন অঙ্গ ভঙ্গিতে তাদের উত্ত্যক্ত করতে দেখা যায়। এদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করতে গেলে একযোগে প্রতিবাদকারী হামলার শিকার হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিকালে আবার গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোয় তাদের আড্ডা লক্ষ করা যায়। কোনো প্রকার অভিভাবকহীন মনে হয় এদের। নেই শাসনের বালাই বা লজ্জা। এতে করে ছাত্রীসহ অভিভাবকরা চরম অসহায় হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে কপিলমুনি কলেজ মোড় এলাকার মো. জয়নুদ্দিন বলেন, কলেজ মোড়ে উঠতি বয়সের অনেক অপরিচিত ছেলেদের দেখা যায়। তাদের বাড়ি বা ঠিকানা জানিনা, তারা সারাক্ষণ কলেজ রোড ধরে চলে এবং মোবাইল কানে ধরে যাতায়াতের রাস্তায় পায়চারী করতে থাকে। সাধারণ মানুষের বোঝার আগেই তারা এই অভিনব পন্থা অবলম্বন করে। অনেক সময় এরা দলীয় পরিচয় দিয়ে গা বাঁচিয়ে থাকে। স্থানীয় আবু সাঈদ ও তপন জানান, অতিসম্প্রতি কপিলমুনি কলেজের জনৈকা ছাত্রী উত্ত্যক্তের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের আক্রমণের শিকার হয়ে ছুরিকাঘাতে জখম হওয়ার ঘটনা ঘটে। তাছাড়া ভদ্রলোকদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারপিট করার অভিযোগ রয়েছে সংঘবদ্ধ কিশোরদের বিরুদ্ধে। মারপিট করেই এরা লাপাত্তা হয়ে যায়। নিরাপদ সড়ক চাই পাইকগাছা সভাপতি বলেন, বর্তমানে কিছু উঠতি বয়সের অপরিচিত ছেলেদের দেখি, তারা সম্মান করতে ভুলে গেছে। তাদের অভিভাবকদের, সচেতন এলাকাবাসীসহ এদের বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যাবস্থা জোরদার করা উচিত বলে মনে করি। কপিলমুনি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইমরান মোল্লা জানান, কখনোই ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয় না। সন্ত্রাসী কর্মকা-ে ছাত্রলীগ বিশ্বাসী নয়, যারা ছাএলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্ম করছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইনস্পেক্টর জিএম এমদাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।