ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরসহ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশেপাশের আশুগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত কোটি কোটি টাকার সার চাতাল কলের মাঠে ও বিভিন্ন জায়গায় খোলা আকাশের নিচে নামমাত্র ত্রিপল দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় হাজার হাজার টন সার মাসের পর মাস পড়ে আছে। এসব সার খোলা আকাশের নিচে থাকায় বৃষ্টিতে ভীজে নষ্ট হচ্ছে এবং রোদের তাপ ও বাতাসের কারণে জমাট বেঁধে যাচ্ছে। এইসব সার একজন বিএনপি দলীয় যুবদল নেতা। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ডিএপি সার গোডাউনে সংরক্ষণ করার কথা থাকলেও এসব সার রাখা হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। ফলে সারের গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি নষ্ট হওয়া এসব স্যার বস্তাবন্দী করে আবারও বিক্রি হচ্ছে কৃষকের কাছে।দীঘদিন খোলা আকাশের নিচে দীর্গীদন ধরে রাখার কারণে সারের গুরাগুন নষ্ট হয়ে কৃষি ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়ে বলে একাধিক কৃষিবিদের সাথে কথা বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে আশুগঞ্জ রাকিব পরিবহন সংস্থার মালিক নাসির মিয়া বলেন,বাল্কহেড ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের বিদশ থেকে আমদানি করা সার আশুগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় আমার প্রতিষ্ঠান পরিবহন করে থাকে।ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে আশুগঞ্জের বাহাদুর.সোহাগপুর এলাকার অন্তত ৬টি স্থানে প্রায় ৪ লক্ষ বস্তা সার খোলা আকাশের নিছে সরকারী নির্দেশ অমান্য করে রাখা হয়েছে।এভাবে খোলা আকাশের নিচে তিন থেকে চারমাস ধরে সার রাখার কারণে এসব সার বৃষ্টিতে ভিজে,রোদে পুড়ে সারের বস্তা ছিড়ে লক্ষ লক্ষ টাকার সার নষ্ট হচ্ছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিদেশ থেকে আমদানি করা সার তদারকি করার কেউ নেই।এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বাফার গোডাউনের ডিডি মো.মাকসুদুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।বিএডিসির আমদানি করা সারের দেখভালের দায়ীত্ব কেউ আছে কিনা তা জান যায়নি। এ বিষয়ে বিএডিসির সহকারী পরিচালক(সার)মো.মজিবুর রহমানকে তার সেলফোনে(০১৭১৬৪৭০৫৪৯)এই নাম্বারে কয়েক বার ফোনদিলে তিনি প্রতবারই ফেন কেটে দেন। চোখের সামনে জনগণের টাকা কেনা সার এভাবে নষ্ট হচ্ছে। তার জবাবদিহীতা বা দেখাশুনার কোন লোক নাই তা কোনভাবেই বোধগম্য নয় বলছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। তাছাড়া বাহাদুরপুর এলাকার বাসিন্দা সজল নামে এক এলাকাবাসী বলেন, এখান থেকে প্রায় সার চুরি হয়।আমরা দেখেও কিছু বলতে পারি না।আমরা কোন বিছু বলতে গেলেই আমাদেরকে মামলা দিয়ে হেনস্তা করার ভয় দেখায়। আশুগঞ্জ ফেরীঘাটের রাকিব পরিবহনের মালিক নাসির মিয়া।আমরা চাই সরকারী এইসব সার যথাযথ নিয়ম মেনে রাখা হোক। আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা অরবিন্দ বিশ^াস বলেন,সার খোলঅ আকাশের নিচে রাখার বিষয়টি জেলঅ প্রশাসন অবগত আছে। খোলা আকাশে যেন সার রাখা না হয় তার জন্য গোডাউন নিমর্াানের কাজের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। গোডাউন নির্মান শেষ হলে তখন থেকে সার আর খোলা আকাশের নিচে রাখা হবে না। তবে গোডাউন নিম্র্না শেষ হতে অন্তত তিন বছর সময় লাগবে বলে আশুগঞ্জ উপজেলার নির্বার্হী কর্মকর্তা জানান।
আশুগঞ্জে খোলা আকাশের নিচে সার রাখা নিয়ে বাল্কহেড ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের আশুগঞ্জ প্রতিনিধি নাসির মিয়া বলেন,সরকারী বাফার গোডাউনে সার রাখার জায়গা না থাকায় আশুগঞ্জে এনে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়েছে।সরকারী গোডাউনে জায়গা না থাকলে আমার কিছু করার নেই।
আশুগঞ্জে বিভিন্নস্থাানে প্রায় ৪ লক্ষ বস্তা সার দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা এলাকাবাসীর বোধগম্য নয়। ভুর্ত’কির কোটি কোটি টাকার সার অযতœ-অবহেলায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম থেকে রক্ষা করার জন্য সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিবে বলে ভুক্তভোগী মহল আশা করছেন।