কোরবানি ঈদের বাকি মাত্র তিনদিন। সকাল থেকেই জমে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরশহরের শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের পশুর হাট। হাটে দেশী-বিদেশী নানা জাতের পশুর সমাহার থাকলেও সবার নজর মন্তাজ মিয়ার ৭০ কেজি ওজনের ভেড়ার দিকে।
হাটের প্রবেশ মুখেই দেখা যায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের জটলা। সবাই শ্বেত বর্ণের একটি ভেড়া দেখছেন। উৎসুক জনতার অনেকেই আবার তাদের মোবাইল ফোনে ভেড়াটির ছবি তুলছেন।
হাটে কোরবানির পশু কিনতে আসা আখাউড়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শীপন হায়দার বলেন, ভেড়াটি দূর থেকে দেখলে সাদা গরু বলেই মনে হবে। তিনি আরো বলেন এর আগে এত বড় ভেড়া কখনো দেখেনি। পৌরশহরের রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা ও আমেরিকার ফ্লোরিড়া আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক নেছার আহমদ খলিফা বলেন, সাদা বর্ণের ভেড়াটি আকারে যেমন বড় দেখতেও অনেক সুন্দর। এত বড় ভেড়া হাটে আর একটিও দেখা যায়নি। একই শহরের কলেজ পাড়ার বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, কোরবানির হাঠে নানা ধরনের পশু থাকলেও সবার নজর এই বড় ভেড়াটির দিকে।
হাটের ইজারাদার মোঃ শাহীন জানান, হাটে আনা ভেড়াটির ওজন প্রায় ৭০ থেকে ৭২ কেজি হবে। দাম ৭০ হাজার চাইলেও ক্রেতারা ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাম হাঁকাচ্ছে। তবে বিক্রেতা ৬৫ হাজার টাকা হলে ছেড়ে দিবে বলে জানিয়েছে।।
ভেড়াটির মালিক উপজেলার নয়াদিল গ্রামের মন্তাজ মিয়া ভোরের কাগজকে জানান, বছর খানেক আগে জেলার লালপুর পশুর হাট থেকে ছয় মাস বয়সি গাড়ল জাতের তিনটি ভেড়া ৩০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি কিনেন। তারপর এক বছর লালন-পালন করেন। প্রজনন করায় তার খামারে বর্তমানে এ জাতের ১০ টি ভেড়া। মন্তাজ মিয়া আরো জানান, গাড়ল জাতের ভেড়ার তেমন রোগবালাই নেই। বাড়েও দ্রুত। সারাদিন মাঠে চড়িয়ে রাখি। শুধু রাতে ঘাস, বন ও ভুসি দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুয়েল মজুমদার ভোরের কাগজকে বলেন, গাড়ল একটি উন্নত জাতের ভেড়া। এর আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত এলাকা ভারতের পশ্চিম বঙ্গের মেদিনীপুর ও মালদাহ। এই জাতটি অন্যান্য জাতের ভেড়া থেকে কিছুটা আলাদা। এই জাতের ভেড়ার গড়ন দ্রুত বাড়ে। দেহে মাংস উৎপাদন হয় অনেক বেশি। এ কারণে অন্যান্য জাতের ভেড়ার চেয়ে এই জাতের ভেড়া পালন করে খামারিরা অনেক বেশি লাভবান হয়। তাছাড়া তার পশমও অনেক উন্নত। এই পশম দিয়ে অনেক উন্নত মানের জিনিষ তৈরি করা যায়।