খুলনার গণ মানুষের অতি পরিচিত প্রাণপ্রিয় সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আলোর মিছিলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক শেখ তারেক বলেছেন, আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের চাবিকাঠি স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হয়ে গেছে। খুলনাতে শুরু হতে চলেছে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ। ইতিমধ্যে, কৃষি জমি,বনাঞ্চল, জলাশয় উজাড় ও ভরাট করে শুরু হয়েছে শিল্পায়ন ও নগরায়ণ। খুলনা শহরের আশেপাশের গ্রামগুলোতে ও শিল্পায়ন নগরায়নের ছোঁয়া অনেক আগেই লেগে গেছে। পদ্মা সেতু চালু হবার পর সেটি এখন হু হু করে বাড়ছে। এ অঞ্চলের বন্য প্রাণী ও পাখিদের আবাসস্থলগুলো ধ্বংস হচ্ছে। সংকুচিত হচ্ছে বন্য প্রাণী ও পাখিদের বেঁচে থাকার উৎস্যগুলো।
তিনি আরও বলেছেন, খুলনা একটি বিভাগীয় শহর। অথচ একটি বিভাগীয় শহরে বড়সড় তেমন কোনো বিনোদন কেন্দ্র নেই বললেই চলে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের একটি ছোট্ট মিনি চিড়িয়াখানা রয়েছে। যেটিতে বন্য প্রাণীদের আটকে রেখে অমানবিক প্রদর্শনে চিত্তবিনোদনের নামে প্রাণী অধিকার হরণ করা হয়।
আমাদের এ অঞ্চলের পাখিরা সারাদিন বিভিন্ন খাল নদী জলাশয়ে আহার করে, সন্ধ্যার আগে রাতের বিশ্রামের জন্য সুদূর ১০০ কিলোমিটার দূরে সুন্দরবনে উড়ে যাওয়া এবং আবার তার পরের দিন জীবিকার জন্য দৈনিক ফিরে আসা সম্ভব নয়।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যেভাবে শিল্পায়ন ও নগরায়ণ হচ্ছে, তাতে আগামীতে বন্য প্রাণী ও পাখিদের জীবিকা ও আশ্রয়স্থল বলে তেমন কিছু থাকবে বলে মনে হচ্ছে না। সেই আগামীর কথা চিন্তা করেই আলোর মিছিলের পক্ষ থেকে আরও প্রায় ৯ বছর আগে একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছিলাম আমরা। একটি সাফারি পার্ক, যেখানে থাকবে জলাশয়, বিপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ, বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, সেখানে বাঘ, হরিণ, শেয়াল, শুকর, বানরসহ দেশীয় প্রজাতির সকল বন্য প্রাণীর থাকবে উন্মুক্ত বিচরণ। আকাশে পাখিদের কোলাহল, ভোর হতেই আশেপাশের সকল জেলা উপজেলায় ছড়িয়ে পড়বে পাক পাখালিরা এবং সারাদিন জলাশয়, কৃষি জমির উচ্ছিষ্ট ও পোকা মাকড় খেয়ে কৃষিকে করবে সমৃদ্ধশালী। তারা টিকে থাকবে এবং বাঁচিয়ে রাখবে প্রকৃতির ঐকতান সৌন্দর্য, আমাদের দেশের ঐতিহ্য ও ইতিহাস।
তিনি বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের পানির ন্যায় আাশাবাদ ব্যক্ত ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মাননীয় উপমন্ত্রী মহোদয়, যদিও আপনি বলেছেন বিষয়টি একটু জটিল। তবে আমরা জানি আপনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অত্যান্ত আস্থাভাজন, আমাদের খুলনা সিটি মেয়র, খুলনার কর্মবীর তালুকদার আবদুল খালেক মহোদয়, তিনিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অত্যান্ত আস্থাভাজন, আমাদের খুলনায় আরও অনেক নামি-দামি ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। যেমন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ডঃ মশিউর রহমান। তিনিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অত্যান্ত আস্থাভাজন। শুনেছি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহদয়ের প্রচেষ্টায় সেখানে একটি সাফারি পার্ক তৈরি হচ্ছে। আমরা খুলনার মানুষ বিশ্বাস করি এবং হৃদয়ে ধারণ করি, আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের তিন নক্ষত্র আপনারা। আপনারা চাইলেই কেবল এটি খুবই সহজ এবং সম্ভব।
তিনি হতাশার সাথে জোরালো আশা ব্যক্ত করে বলেন, যেভাবে শিল্পায়ন ও নগরায়ণ শুরু হতে চলেছে, তাতে এখন সম্ভব না হলে সেটি আগামীতে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এবং অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এ অঞ্চলের বন্য প্রাণী ও পাখিদের আবাসস্থল। বেঁচে থাকা, টিকে থাকা ও আমাদের দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখা আর সম্ভব হবে না। আমরা আশা করছি, আপনাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এটি সহজেই সম্ভব হবে ইনশা-আল্লাহ্। মহান প্রতিপালক আমাদের সকলের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায় হোন আমিন।
আলোর মিছিলের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন বাস্তবায়নে খুলনায় একটি সাফারি পার্কের পরিকল্পনা তুলে ধরলাম- মাননীয় উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এমপি, পরিবেশ বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়। ডঃ মোল্লা রেজাউল করিম, বন সংরক্ষক ঢাকা। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা উঋঙ খুলনা নির্মল কুমার পাল, বন রক্ষক খুলনা মিহির কুমার দে।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইইঈঋ এর সভাপতি।