খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া নামক স্হানে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে জবর দখলের অপচেষ্টায় মধ্যযুগীয় কায়দায় তান্ডব চালিয়ে ৫ শতাধিক ফলন্ত কলা গাছ ও সবজি ক্ষেত কেটে সাবাড় করে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা।
এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জমির মালিক খাদিজা বেগমের স্বামী আবদুল কুদ্দুস শেখ বাদী হয়ে ডুমুরিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এলাকাবাসী ও মামলার এজাহার সুত্রে জানাগেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের
কুলবাড়িয়া- বরাতিয়া মৌজায় বাদী আবদুল কুদ্দুস শেখ এর স্ত্রী খাদিজা বেগম কবলা দলিল ও রেকর্ডীয় সূত্রে ভোগদখলীয় সাড়ে ২৩ শতক জমির মালিকানা রয়েছে।
যার এসএ খতিয়ান নং ১৯৫৫, আরএস খতিয়ান নং ১৩২৮ ও ৩০৪১,দাগ নং ১২২১, বিআরএস ২৮৬৫ ও ৩০৪৭ দাগে ২৮ শতক জমির মধ্যে হতে ২৩ শতক জমি নিয়ে বিবাদী এলাকার হায়দার আলি গোলদার গংদের সাথে বিরোধ চলে আসছে।
উক্ত জমিতে বিভিন্ন প্রকার গাছপালা ও সবজি আবাদ করে শান্তিপূর্ণ ভোগদখলে আছেন বাদী পক্ষ।
কিন্তু আসামিরা এলাকার ভুমিদস্যু ও দাঙ্গাবাজ প্রকৃতির ব্যাক্তি হওয়ায় ইতোপূর্বে তারা ওই জমি জবর দখলের পরিকল্পনা করলে বিষয়টি নিয়ে খাদিজা বেগম বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত খুলনায় একটি দেওয়ানী মামলা যার নম্বর ১২৩/১৯ দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষের শুনানি আন্তে বাদীপক্ষের অনুকূলে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। কিন্তু আসামি গন আদালতের আদেশ অমান্য করে মঙ্গলবার (২৮ জুন) সকাল পৌনে ৭টার দিকে মামলার প্রধান আসামি হায়দার আলি গোলদারের নেতৃত্বে ৩৫/৪০ জন ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী তাদের হাতে থাকা দাঁ, কুড়াল, শাবল, হাসুয়া কোদাল নিয়ে বর্ণিত জমিতে থাকা ৫ শতাধিক ফলন্ত কলা গাছ, ওল, লাউগাছ ও মেটেআলু গাছ কেটে সাড়াব করে দেয়।
যার আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। খবর পেয়ে বাদী পক্ষরা বাঁধা দিতে গেলে আসামিরা তাদের কে মামলা না করাসহ নানাবিধ হুমকি ধামকি দিয়ে দ্রুত ঘটনা স্থল ত্যাগ করে চলে যায়।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ আবদুল কুদ্দুস শেখ বাদী হয়ে মোঃ হায়দার আলি গোলদার কে প্রধান করে ৯ জনের নাম উল্লেখ ও ৩৫/৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসমি করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এ প্রসংগে ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ কনি মিয়া জানান, মামলা রেকর্ডের প্রস্তুুতিসহ পরবর্তি পদক্ষেপ গ্রহন এবং আসমিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।