খুলনার পাইকগাছা পৌরসভা কর্তৃক নবলোক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শক্তিশালী পানির প্লান্ট নির্মাণ বন্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। জানাযায়, পৌরসভা ও নবলোক ফাউন্ডেশন পৌরসভায় সুয়েপ পানি সরবরাহের জন্য উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নে বাজারের উত্তর পার্শে ৪শতাংশ জমি ক্রয় করে। সেখানে শক্তিশালী পানির প্লান্ট স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করলে স্থানীয় কাজী শুভ বাদী হয়ে গত ১৬ জুন পাইকগাছা বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় এমআর ২২৩/২২নং মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পানির প্লান্ট নির্মাণ কাজ সরেজমিনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ও থানাকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন। স্থানীয়রা একত্র হয়ে পানির প্লান্ট স্থাপনের কাজ বন্ধ করার জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগও দিয়েছেন। স্থানীয় কাজী হেদায়েত উল্লাহ জানান, এলাকায় শক্তিশালী পানির প্লান্ট স্থাপিত হলে পানিরস্তর নিচে নেমে যাবে ও এলাকায় ব্যাপক পানির সংকট দেখা দিবে, যে কারণে এলাকাবাসী এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। উপজেলা নার্সারী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল সরদার ও সহ-সভাপতি আসাদুল ইসলাম বলেন, গদাইপুর ইউনিয়ন ব্যাপি হাজার হাজার নার্সারী রয়েছে। নার্সারীতে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। এখানে পৌরসভা শক্তিশালী পানির প্লান্ট স্থাপিত হলে ভূগর্ভস্থ পানিরস্তর নিচে নেমে যাওয়ার ফলে ঋণগ্রস্ত কৃষক ও নার্সারী ব্যাবসায়ীরা ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান বলেন, পানির প্লান্ট স্থাপনের বিষয়ে আমি এলাকাবাসী ও চেয়ারম্যান মহাদয়ের সাথে আছি। ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জিয়াদুল ইসলাম জিয়া বলেন, ইউনিয়নের সম্পদ যদি জনগণ দিতে না চায়, তাহলে আমার করনীয় কিছু নেই। ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ যেদিকে থাকবে আমি সেইদিকে থাকবো। যদি ক্ষতির আশঙ্কা থাকে আমি সে দিকে থাকবো না। ইউনিয়নের উপকার হবে আমি সেদিকে থাকবো। পৌরমেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, মামলা ও অভিযোগ হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। যদি হয়ে থাকে আদালতে আইনি লড়াই করবো। পৌর প্যানেল মেয়র শেখ মাহবুবুর রহমান রঞ্জু বলেন, আমরা আদালতের নোটিশ পেয়েছি এখানে কোথাও ১৪৪ ধারার কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সরেজমিনে তদন্ত প্রতিবেদন ও থানাকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে। এর আগে আমরা উপজেলার মানিকতলা থেকে পানি নিয়েছি সেকানে কেউ দ্বিমত পোষণ করেন নাই। পৌরসভায় মিষ্টিপানির আঁধার না থাকায় পানির প্রয়োজনের লক্ষ্যে আইন মোতাবেক যেভাবে পানি আসলে ভালো হয়। সেই ব্যবস্থা করবো। কারো ক্ষতি করা আমাদের কাম্য নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, টেকনিক্যাল সার্বে দরকার। সেজন্য উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকোশলীকে সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন জমাদানের জন্য বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি পেলে পরবর্তি প্রজোনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।