বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপনে খুলনায় উজ্জীবিত জনতার বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস তৈরি হয়। শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক পদ্মা সেতু উদ্বোধনের জাতীয় অনুষ্ঠানমালা খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে বড় পর্দায় সরাসরি প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সাথে সাথে খুলনায় নানা রঙের বেলুন উড়িয়ে মুহুর্তটি উদযাপন করা হয়। পদ্মা সেতু উদ্বোধনকে স্বাগত জানিয়ে শনিবার সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ-কেএমপি নগরীতে শোভাযাত্রা বের করে। এরপর উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। এসব অনুষ্ঠানে ছিল বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল। খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানস্থলে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাসুদুর রহমান ভূঞা, রেঞ্জ ডিআইজি ড.খ: মহিদ উদ্দিন, কেডিএ’র চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মিরাজুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার, জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা,বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে স্মরণীয় রাখতে সারাদেশের ন্যায় খুলনায় একযোগে সম্প্রচার করা হয় উদ্বোধন অনুষ্ঠান। সকাল থেকে উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেখতে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ভিড় করতে থাকে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। সময় বাড়ার সাথে সাথে মানুষের ঢলও বাড়তে থাকে। এরইমধ্যে শুরু হয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের কারণে নগরীর সড়কে মানুষের উপস্থিতি কম দেখা যায়। অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষায় ছিল সকাল থেকে খুলনা ক্যান্টনমেন্ট কলেজ এ- স্কুলের শতাধিক ছাত্র। তাদের মধ্যে আলভী নামে এক ছাত্র বলেন, আজ আমাদের জন্য গর্বের দিন। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ফলে এ অঞ্চলের বৈষম্য দূর হয়ে যাবে। দূরত্ব কমে যাবে ঢাকা ও খুলনার। খুলনাসহ ২১ জেলার মানুষের উন্নতি হবে। সুন্দরবন আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সুর্বণা আবেগে কেঁদে ফেলেন। বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া পদ্মা সেতুর উদ্বোধন সম্ভব হত না। তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দীঘায়ু কামনা করেন। এদিকে, পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে খুলনা শহর ও স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকা রঙিন পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন দ্বারা সুসজ্জিত করা হয়। সরকারি-বেসরকারি ভবনে বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়। বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্র বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার ও স্থানীয় পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, খুলনা রেলওয়ে স্টেশন এবং ডাক অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সামনে এল-ই-ডি স্ক্রিনে পদ্মা সেতুকে উপজীব্য করে নির্মিত বিশেষ ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। অপরদিকে, স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ঐতিহাসিক উদ্বোধন অনুষ্ঠান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি দেখানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা, ডিনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ডিসিপ্লিন প্রধানবৃন্দ, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্টবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধানসহ, বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারি এই উদ্বোধন অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরই উপাচার্য সবাইকে মিষ্টিমুখ করান। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস।