খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজগুলো এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে সেসন চার্জ ও টিউশন ফিস শতভাগ আদয়ে দৃঢ় সিদ্ধান্ত ও শক্ত অবস্থানে থেকে তৎপর ভূমিকা পালন করছেন। ফলে দিঘলিয়া জনপদের খেটে খাওয়া কর্মহীন ও করোনার চরম ছবলে অর্থনৈতিকভাবে মেরুদ- ভাঙ্গা অভিভাবকদের সন্তানেরা তাদের সন্তানদের অর্থের জোগান দিতে না পারায় একদিকে অভিভাবকগণ বিড়াম্বনার শিকার হচ্ছেন অপর দিকে ঐ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শারীরীক ও মানসিক টর্চারিংয়ের শিকার হচ্ছে। কোন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক প্রভাবকে জানান দিয়ে নানানভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক টর্চারিং চালিয়ে থাকেন বা চালাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, দিঘলিয়া উপজেলার পথের বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাজীগ্রামের একজন পিতৃহারা গার্মেন্টস শ্রমিক মায়ের কন্যা ওই বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে টিউসন ফিসের মাত্র ৪০০ টাকার জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেন নাই।
অপর দিকে স্থানীয় ব্রহ্মগাতী ও পানিগাতি গ্রামের ৫ জন শিক্ষার্থীকে যে সময় তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য পড়ার টেবিলে থাকার কথা সেখানে তারা বেতন মওকুপের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। সেদিন ওই ৫ জন শিক্ষার্থীদের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা জানায়, তারা দিঘলিয়া উপজেলার দিঘলিয়া এমএ মজিদ সরকারি কলেজের ছাত্র। তারা ৫ জন ব্রহ্মগাতী ও পানিগাতি গ্রামের গরিব পরিবারের সন্তান। তাদের মত আরও অনেক শিক্ষার্থী আছে। যারা কলেজের সেসন চার্জ ও টিউশন ফিস পরিশোধ করতে ব্যার্থ হয়ে দ্বারে দ্বরে ঘুরছে। অনেকে মানসিক আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ালেখা ছাড়ার উপক্রম হচ্ছে। এ ব্যাপারে কথা হয় হাজীগ্রাম নিবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের সাথে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, শিক্ষকরা সমাজের দর্পন ও মানুষ গড়ার কারিগর। কারিগরের কি কি গুণ থাকা প্রয়োজন এবং সে গুলো আছে কিনা সেটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ক্ষতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যকরী পরিষদ গঠন হচ্ছে না প্রতিষ্ঠান প্রধানের সুবিধামত পকেট কমিটি হচ্ছে সেগুলোও তদন্ত করে দেখা উচিত শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের। এ ব্যাপারে দিঘলিয়া উপজেলার একজন সাংবাদিক জানান পথের বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজনীন আক্তারের বিরুদ্ধে স্কুলের ক্যাচমেন্ট এলাকার কয়েক গ্রামের মানুষের অনেক অভিযোগ। সব সময় এলাকার প্রভাবশালীমহলের ছত্রছায়া তৈরি করে চলেন। যে কারণে অভিভাবকমহল জিম্মী। সম্প্রতি হাজীগ্রাম নিবাসী মৃত জয়নাল আবেদিনের কন্যা ওই বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী জোনাকী খাতুনকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দিয়েছেন। কোনো প্রকার আকুতি সেদিন প্রধান শিক্ষক নাজনীন আক্তারের হৃদয় স্পর্শ করেনি। বরং এ প্রতিবেদককে দিঘলিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাধ্যমিক মোঃ মাহফুজুর রহমান এ প্রতিবেদককে শুনালেন কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে অপারগতা ও সীমাবদ্ধতার গল্প। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের সকল বিষয় দেখভালের দায়িত্ব ও ক্ষমতা স্কুল পরিচালনা পর্ষদের হতে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ অসহায়েত্বের কারণে দিঘলিয়ার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারীদের নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতির অভিযোগ শুধু গণমাধ্যমে ও মানুষের মুখে মুখে। বিচারের বাণি নিভৃতে কাঁদে এমনই অবস্থা। অপরাধ প্রতিরোধ নয় অপরাধীকে বাঁচাও এমনই তৎপরতার কথা এ প্রতিবেদককে শুনালেন হাজীগ্রামসহ দিঘলিয়া এলাকার বিজ্ঞমহল। এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে দিঘলিয়ার সূর্য্যসন্তান দানবীর এমএ মজিদ এর নাম স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ না করে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থের লোলুপ মানসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় করে দিয়েছেন বিশিষ্ট জনের নাম। যাঁর জন্ম না হলে দিঘলিয়ায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়তো গড়ে উঠত না। তাঁর শিক্ষাক্ষেত্রে সম্পদ ও নগদ অর্থ ত্যাগের মহিমায় হয়তো দিঘলিয়ার এ যুগের নতুন প্রজন্ম বিদ্যার সোনালী আলোর ঝলকানিতে উদ্ভাসিত হতে পারতো না এমনই করুন চিত্র বেরিয়ে এসেছে দিঘলিয়ার নানা মানুষের কাছ থেকে। এ ব্যাপারে কথা হয় দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মারুফুল ইসলাম এর সাথে। তিনি দিঘলিয়া উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের চলমান ঘটনার কথা স্বিকার করে বলেন, আমার কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ এসেছে যা ইতোমধ্যে স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে জানিয়েছি। বেশ কয়েকজন ছাত্র তাদের সমস্যা নিয়ে আমার কাছে এসেছিল আমি তাদের বেতন মৌকুপের জন্য সুপারিশ করেছি। সামগ্রীকভাবে বলতে গেলে দিঘলিয়া জনপদের বেশীর ভাগ লোক অভাবি। শিক্ষকগণ সেই এলাকার বাইরের কেউ নন। এ বিষয়ে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে আইনের হাত থেকে পার পাবেন না। আামাদের খেয়াল রাখতে হবে আইনের উর্ধ্বে আমরা কেউ না। দিঘলিয়া জনপদের বিজ্ঞমহলের জিজ্ঞাসা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি সত্যই অসহায়?