লাইসেন্সপ্রাপ্ত আমদানীকারকের মালামাল জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে খালাস ও বিক্রির অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ১৩ জুন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেনাপোল পোর্ট থানা আমলী আদালত যশোরে এ মামলা দায়ের করা হয়। যার নং-৯৪। খুলনার আমদানিকারক আশরাফ হোসেন এ মামলা দায়ের করেন। শুনানী শেষে আদালত অভিযোগটি পিবিআইকে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। আসামিরা হলো-হান্নান মিয়া, আজিজা সুলতানা, রফিকুল ইসলাম, মোঃ শাহজালাল, আসাদুজ্জামান মিন্টু, আনন্দ চৌধুরি ও মফিজুর রহমান নান্নু। বাদীর আইনজীবী এড. রফিকুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে একজন প্রকৃত আমদানীকারকের মালামাল জালজালিাতির মাধ্যমে খালাস করে তা বিক্রি করে দিয়েছে। এতে করে ওই আমদানিকারক সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বাদী অমি ইন্টারন্যাশনাল নামক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী। তিনি কমার্স ব্যাংক খুলনা শাখায় এলসির মাধ্যমে ১৯,৪০০ ডলার মূল্যের ১৫০ প্যাকেট সাব মার্সিবল পাম্প (এপিআই) এর মাধ্যমে ভারত থেকে আমদানি করেন। উল্লিখিত মালামাল যথাসময়ে রপ্তানীকারক কর্তৃক প্রেরিত হয়ে বাংলাদেশে প্রেরিত হয়। উল্লিখিত মালামাল বেনাপোল পোর্টের কাস্টমস হাউজের ২২নং শেডে রাখা হয়। আমদানীকৃত উল্লিখিত মালামাল বাদীর প্রতিষ্ঠান অমি ইন্টার ন্যাশনাল এর প্রতিনিধি ( ২ ও ৩ নং স্বাক্ষী) ছাড় করানোর জন্য গত ১৭ জানুয়ারী ২২নং শেডের ইনচার্জের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করতে গেলে শেড ইনচার্জ ৭নং আসামি জানায়, গত ৬ জানুয়ারী ১নং আসামীর মালিকানাধীন মেসার্স শাহজালাল নামক সিএন্ডএফ এজেন্ট এলসিসহ অন্যান্য কাগজপত্র দাখিলের মাধ্যমে আমদানীকৃত বাদীর পণ্য চালানটি খালাস করে নিয়ে যায়। ওই মালামাল সেলিনা ট্রান্সপোট এজেন্সি, বেনাপোল-এর ট্রাক ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৪৩৪২ যোগে চালক ওমর আলীর মাধ্যমে (চালান নং-৩৩৪) খালাস করা হয়। এ ব্যাপারে ৩নং আসামি আসাদুজ্জামান মিন্টু সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। উল্লিখিত মালামাল কেশবপুরে ৩নং আসামীর নিকট বিক্রি করে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় ১-৪নং আসামি সক্রিয় এবং সার্বিক দায়িত্ব পালন করে। রপ্তানীকারকের মূল ইনভয়েস নং-০৭৮/২১-২২ অথচ ১-৩নং আসামীগণ ৫-৭নং আসামীদের সক্রিয় সহযোগিতায় জাল ইনভয়েস নং-০৬৯/২১-২২সহ অন্যান্য জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে বাদীর আমদানীকৃত মালামাল সরবরাহ করে এবং মালামাল গায়েব করে। বাদী বিষয়টি জানার পর বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার, বন্দর থানা, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেন। গত ২ ফেব্রুয়ারী এ ব্যাপারে বোনপোল থানায় জিডি করা হয়। যার নং-৫৮। বাদী বেনাপোল কাস্টমস দপ্তরে মূল ডকুমেন্টসহ মালামালের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু ৫-৭নং আসামীগণের গড়িমসি অসহযোগিতার কারণে বিষয়টি নিস্পত্তি হয়নি। বাদী গত ২৭ মার্চ কাস্টম কর্তৃপক্ষকে আমদানীকৃত মালামাল বাজার মূল্যসহ যথাযথ ক্ষতিপূরণসহ অর্থ ফেরৎ প্রাপ্তির আবেদন করলে এখনও পর্যন্ত তার সুরাহা হয়নি। এতে করে বাদী আর্থিকভাবে স্বশান্ত হয়ে পড়েছে। আসামীগণ পরস্পর যোগসাজসে প্রতারণা, বিশ্বাস ভঙ্গ করে অবৈধভাবে লাভবানের উদ্দেশ্যে জালজালিয়াতির মাধ্যমে বাদীর আমদানীকৃত মালামাল খালাস করেছে। আসামীগণ প্রত্যেকে দন্ড বিধির ৪০৬/৪২০/৪৬৫/৪৬৭/৪৭৮/৪৭১/১০৯ ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে।