রূপসায় নৌকা মাঝি সংঘের সদস্য নিখোঁজ মতি শিকদারের লাশ দীর্ঘ ২৮ ঘন্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বটিয়াঘাটার দশগেট এলাকায় জেলেদের জালে তার মৃতদেহটি পাওয়া যায়। এর আগে নিখোঁজ মতিকে উদ্ধারে রূপসা নদীতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি টিম এবং মাঝি ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সাধারণ মাঝিরা ১৫ টি ট্রলার নিয়ে রূপসা নদীর জেলখানা ঘাট, বটিয়াঘাটার কাতিয়ানাংলা খেয়া ঘাট, ষোলমারি ও চালনার ঘাটসহ নদীর বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজি করেন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিট টিমের পাশাপাশি নৌ-পুলিশ, কোষ্ট গার্ড, এবং স্বজনরা তাদের সাথে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রাখেন। এদিকে, নিখোঁজ মতি শিকদারের সন্ধানে তার পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা ঘটনার পর থেকে রূপসা নদীর তীরবর্তী দাঁড়িয়ে নদীর দিকে ফ্যাল-ফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলেন। কখন যেন নিখোঁজ মতি শিকদারের দেহটি নজরে আসবে সেই- অপেক্ষায়। তাকে এক নজর দেখার জন্য বুক বেধে ছিলেন তার গর্ভধারিণী মা, স্ত্রী ও সন্তানেরা এবং মাঝি ইউনিয়নের লোকজনসহ আত্মীয় স্বজনেরা। তবে, শোকাহত হলেও লাশ উদ্ধারের পর কিছুটা স্বস্তি ফিরে পান তারা। অপরদিকে, বাকী আহতরা এখনও পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
নিখোঁজ মতি শিকদারের মা রাবিয়া বেগম বলেন, আল্লাহর ইচ্ছে হয়েছে নিয়ে গেছে, তবে শেষবারের মতো সন্তানের মরদেহটি এক নজর দেখতে পেয়ে মনটায় শান্ত হয়েছে। মাঝি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত বেপারী বলেন, নিখোঁজ মতি শিকদারকে খুঁজতে ষোলমারি এবং চালনার ঘাট পর্যন্ত খোজাখুজি করা হয়। আমাদের সাথে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিট কাজ করেছে। খোজাখুজির কাজের জন্য নদীতে ১৫ টি ট্রলার দেওয়া হয়। তবে জেলেদের জালে তার লাশ বেধে উদ্ধার হয়েছে। রূপসা বাস স্ট্যান্ড পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মো. রমজান আলী বলেন, নিখোঁজ মতি শিকদারের বিষয়টি নিয়ে মাঝি শ্রমিকদের কমিটির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার লাশ বটিয়াঘাটার দশগেট এলাকায় জেলেদের জালে পাওয়া যায়। পরে মতি মাঝির লাশ চর রূপসাস্থ রেলওয়ে মসজিদ ময়দানে পৌঁছালে তাকে শেষবারের মত একনজর দেখার জন্য গ্রামবাসীর ভিড়ে জন সমুদ্রে পরিণত হয়। এ সময় নিকট আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের আহাজারীতে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। লাশের গোসল করানোর পর রাত সাড়ে ১২ টায় প্রথম জানাজা নামাজ পূর্ব রূপসাস্থ রেলওয়ে জামে মসজিদে চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। পরে ওই রাতেই মাদারীপুর গ্রামের বাড়ি নিয়ে পরদিন সকালে দ্বিতীয় জানাজা নামাজ শেষ করে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, ১৫ জুন বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে রূপসা নদীতে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ট্রলারের মাঝি মতি শিকদার নিখোঁজ হয়। আরো এক মাঝীসহ ৭ যাত্রী গুরুতর আহত হয়। আহতদের মধ্যে মাঝি সংঘের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন শেখ (৫৫), বাগমারা গ্রামের নিজামের ছেলে নাজমুল হাসান রানা (২২) ও নিখোঁজ মতি মাঝির ছেলে রাকিব (১৫), সেনেটারী মিস্ত্রি বাপ্পি হাওলাদার (১৮)সহ কয়েকজন যাত্রী।