খুলনার পাইকগাছায় ইউপি চেয়ারম্যানকে ফাঁসাতে মিথ্যাচার করছে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার গড়ইখালীতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার টাকা পেয়েও এক ব্যক্তি ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতি ও টাকা আত্মসাৎ এরঅভিযোগ তুলছে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে অনেকেই পক্ষে বিপক্ষে জনমত সৃষ্টি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই নিয়ে থানায় জিডি সহ ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। যা পুলিশ তদন্ত চলমান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু'র প্রচেষ্টায় উপজেলার গড়ইখালী ইউপি'র ফকিরাবাদ গ্রামের মৃত বিনোদ মন্ডলের ছেলে সুকুমার মন্ডলের নামে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা স্বরুপ ৪০ হাজার টাকার চেক বরাদ্দ হয়। যার হিসাব নং ০১০৭৩৩৩০০৪০৯৩, চেক নং সিসি-১০০-৯৮১৮১৭৪, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড কর্পোরেট শাখা, ঢাকা। চেকটি ফান্ড ট্রান্সফারের জন্য ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড গড়ইখালীএজেন্ট শাখায় দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অন্যান্য কাগজপত্র সহ চেকটি হারিয়ে ফেলে। যার প্রেক্ষিতে ব্যাংক পরিচালক মো. ইয়াকুব আলী গত ১৯ এপ্রিল '২১ পাইকগাছা থানায় একটি জিডি করেন। যার নং ১০৫৩। এদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সমালোচনা এড়াতে সস্থানীয় অনেকের উপস্থিতিতে সুকুমার মন্ডলকে নগত ৪০হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে ৪০ হাজার টাকা প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পরামর্শে সুকুমার মন্ডল হারিয়ে যাওয়া চেক পুনরায় ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালের সচিব বরাবার আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে গত ২৫এপ্রিল '২২ পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে সুকুমার মন্ডলের নামে একটি চেক বরাদ্দ হয়। জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক বিতরণ করা হয়। কিন্তু এদিন সুকুমার মন্ডল উপস্থিত না হওয়ায় গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান ও ব্যাংক পরিচালক চেকটি কালেকশন করে সুকুমার মন্ডলের হিসাব নম্বরে জমা দেন। এ বিষয়ে ব্যাংক পরিচালক মো. ইয়াকুব আলী সুকুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগের কথা বলে জানান, সুকুমার মন্ডলের নামীয় চেকটি হারিয়ে যাওয়ায় আমি থানায় জিডি করে ব্যাংকের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে তাকে নগদ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করি যার একটি ভিডিও ফুটেজ ও রয়েছে। তিনি আরো জানান, পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রচেষ্টায় পুনরায় তার নামে ৪০ হাজার টাকার চেক পেলে আমি কালেকশন করে তার নামীয় একাউন্টে জমা করি। যা তদন্ত হলে পরিস্কার হবে। পরবর্তীতে ব্যাংকের প্রদেয় টাকা ফেরত চাইলে সে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করে হয়তো কারোর প্ররোচনায় ইউপি চেয়ারম্যান জি এম আবদুস ছালাম কেরু বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতি ও টাকা আত্মসাৎ এর মিথ্যা অভিযোগ করেছে। সুকুমার মন্ডল মুঠোফোনে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ইঞ্জিনিয়ার প্রেম কুমার মন্ডলের মাধ্যমে একটি ও সংসদ নির্বাচনের পরে বর্তমান এমপি'র মাধ্যমে আরেকটি আবেদন করি। ফলে পর পর বরাদ্দকৃত দুটি চেকের টাকা তার বলে দাবি করেন। কিন্তু চেক হারানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুনঃচেক প্রাপ্তির আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা কৌঁশলে এড়িয়ে যান। এ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে একই ব্যক্তির নামে একাধিকবার চেক ইস্যু হওয়ার কোন সুযোগ নেই। মুলতঃ সুকুমার মন্ডলের চেক হারানোর আবেদনের প্রেক্ষিতে পুনরায় তার নামে চেক বরাদ্দ হয়। এ বিষয়ে গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান জি এম আবদুস ছালাম বলেন, সুকুমার মন্ডলের নামীয় চেক ইসলামি ব্যাংক গড়ইখালী এজেন্ট শাখায় তার একাউন্টে ব্যাংকে জমা আছে। এখানে কি ভাবে টাকা আত্মসাৎ এর ঘটনা ঘটলো? তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, গত ইউপি নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে কেউ হয়তো সুকুমার মন্ডলকে প্ররোচিত করে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করে জল ঘোলা করার চেষ্টা করছে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার চেক সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাংক পরিচালক জিডি সহ একটি অভিযোগ করেছেন। টাকা ব্যাংক একাউন্টে জমা আছে। এখানে আত্মসাৎ বলার সুযোগ নেই। তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে।