ডুমুরিয়ার মাগুরাঘোনার কাঞ্চনপুর এলাকায় বাক্ প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভূক্তভোগী নারীর ভাই সোহেল শেখ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ মামলার আসামি ধর্ষক মাসুম শেখ (৩৫) কে গ্রেফতার করে। মামলার বিবরণ ও ভূক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উত্তর মাগুরাঘোনা গ্রামের করিম বাক্স মোড় এলাকায় হযরত আলী শেখের বাক্ প্রতিবন্ধী মেয়ে (৩৫) কে একই এলাকার ওমর আলী শেখের ছেলে লম্পট মাসুম শেখ প্রায় তাকে কু-প্রস্তাবসহ উত্ত্যক্ত করত। সুযোগ বুঝে মাসুুম শেখ গত ২২ মার্চ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭ টার দিকে ওই নারীকে সকলের অগোচরে পাশ্ববর্তী নান্টু মিয়ার বাড়ির পাশে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে ওই বাক্ প্রতিবন্ধী নারীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনার প্রায় দু'মাসের অধিক সময় অতিবাহিত হওয়ার পর গত ২৯ মে সকালে ভিকটিমের শারিরীক অবস্থা পরিবর্তন আঁচ করতে পারে তার মা ও ভাবিসহ অন্যান্যরা।এরপর স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে পরীক্ষা করে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত হন তারা।
এ সময় পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি খুলে বলে বাক প্রতিবন্ধী ধর্ষণের শিকার নারী। মাসুম শেখ এ ঘটনার জন্য দায়ী। বিষয়টি তাৎক্ষনিক ভাবে ভিকটিম পরিবারের লোকজন মাসুম শেখ ও তার পিতা ওমর আলী শেখের কাছে জানাতে গেলে বিষয়টি তারা কাউকে জানাতে নিষেধ করে। বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে জীবন নাশসহ নানাবিধ হুমকি দেয় তারা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ধর্ষিতার ভাই সোহেল শেখ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার ডুমুরিয়া থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।পুলিশ আসামি মাসুম শেখ কে গ্রেপ্তার করে এবং ভিকটিমকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)তে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাগুরাঘোনা পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই,এসএম হাবিবুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান,তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক ভাবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে মামলাটি রেকর্ড হলে দুপুরের দিকে আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। বিকেলে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন। শেষে আদালত আসামিকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।