খুলনার দাকোপে উপজেলা প্রকৌশলী এবং ঠিকাদার যোগসাজশে মসজিদ নির্মান প্রকল্প থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী করেছে।
দাকোপের বানীশান্তা বাজার এলাকায় পশুর নদী ভাঙনে সুন্দরবন জামে মসজিদ ভবনটি চলে যাওয়ায় ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী স্থানান্তরিত জায়গায় নতুন মসজিদ ভবন নির্মান কাজ শুরু হয়। সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্ষেপে জি এস আইডি প্রকল্পের আওতায় ১৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫৬৪ টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া কাজটি একই বছরের ২৫ জুন শেষ হওয়ার কথা। উপজেলা এলজিইডি দপ্তর কাজটির নির্মান কাজ তদারকির দায়িত্বে ছিল। জানা গেছে মেসার্স মাষ্টার এন্টার প্রাইজ নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি কাজ না করে বানীশান্তার ইউপি সদস্য এনায়েত শরীফকে সাব কন্টাকে দিয়ে দেয়। প্রকল্পের মেয়াদকাল শেষ হওয়ার পর প্রায় দু’ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত নির্মান কাজ অসমাপ্ত। কাজের দায়িত্ব নেওয়া ঠিকাদারকে অসংখ্যবার তাগাদা দিলেও তিনি কাজটি করছেন না এমন অভিযোগ মসজিদ কমিটির। এ ছাড়া যে টুকু সমাপ্ত হয়েছে সেখানেও আছে দূর্ণীতি অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ। এ ছাড়া প্রকল্পের ডিজাইন বা কাজের মধ্যে কি কি ধরা আছে সে বিষয়ে মসজিদ কমিটিকে কিছুই জানতে দেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর ঠিকাদারকে চুড়ান্ত বিল পরিশোধ এমনকি জামানাতের টাকা পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনায় গত শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে মুসুল্লিরা মসজিদ চত্বরে দূর্ণীতি বিরোধী প্লাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। অসমাপ্ত কাজের বিপরীতে ঠিকাদারকে কিভাবে জামানাতসহ বিল পরিশোধ করা হল এমন অভিযোগ তুলে তারা বলেছেন ঠিকাদার প্রকৌশলী মিলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। একই সাথে প্রকল্পের বাইরে কমিটির প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজের মান উন্নত করার জন্য ঠিকাদার এনায়েত শরীফ কমিটির নিকট থেকে নগত ২ লক্ষ টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন মসজিদ কমিটির সভাপতি মোখলেছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম শেখ, মাইনুদ্দিন খান, লালু পাটোয়ারী, আবেদ খান, সোহেল পাটোয়ারী, রুবেল মোল্যা, জালাল উদ্দিন, কামাল হোসেন, মোঃ আলামিনসহ আরো অনেকে। এ ব্যাপারে সাব কন্টাক্টর এনায়েত শরীফ কিছু কাজ অসমাপ্ত আছে স্বীকার বলেন, কমিটি আমাকে অতিরিক্ত কাজের জন্য ৯৫ হাজার টাকা দিয়েছে। তিনি বলেন মূল ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের প্রতিষ্ঠানের নামে চেক হওয়ায় তিনি সব টাকা নিয়েছেন। এখন তিনি টাকা দিলে আমি অসমাপ্ত কাজ করে দেব। মেসার্স মাষ্টার এন্টার প্রাইজের প্রোপাইটার রফিকুল ইসলাম এ ঘটনার জন্য এনায়েত শরীফ এবং উপজেলা প্রকৌশলীকে দায়ী করে বলেছেন, কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় কিভাবে চুড়ান্ত বিল ও জামানাতের টাকা দেওয়া হল ! চেকের বিপরীতে লভ্যাংশসহ সব টাকা এনায়েত শরীফকে পরিশোধ করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেছেন। এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা প্রকৌশলী ননী গোপাল দাস বলেছেন কাজ অসমাপ্ত আছে এ বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে অচিরেই অবশিষ্ট কাজ করে দেওয়া হবে। ছাঁদ ঘেমে পানি পড়া এবং রড বের হয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেছেন কাজের মধ্যে জল ছাঁদ ধরা আছে কিনা সেটা আমার দেখতে হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় চুড়ান্ত বিল এবং জামানাতের অর্থ পায়না, তবে এখানে প্রকল্পের মেয়াদ কম থাকায় এটা মানবিক ভূল হয়েছে বলে তিনি দাবী করেছেন। এলাকাবাসী দ্রুত অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত এবং এমন জঘন্য দূর্ণীতি অনিয়মের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্থির দাবী জানিয়েছেন।