খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ীর ঊপপুলিশ পরিদর্শক আবদুল আলীম যোগদানের শুরু থেকেই বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি ওসির ভূমিকায় নিজেকে জাহির করেন। মাদক চোরা কারবারীদের সহিত নিয়মিত দেন দরবারসহ খোদ ফাঁড়িতে বসেই বিচার কাজ পরিচালনাসহ পক্ষ বিপক্ষের কাছ থেকে করেন ইচ্ছে মত টাকা আদায়। মধ্যেরাত ধরে কপিলমুনিস্থ কাশিমনগর মধ্যে স্থানে মাছ কাটার পিছনে চলে গভীর পরিকল্পনা। এরপর টার্গেট নিয়ে মঠে নামেন তিনি। তার অতিমাত্রায় ঘুষের টাকা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সেবা নিতে আশা সাধারণ মানুষের। গত ঈদের কালেকশান ছিল ভিন্ন মাত্রার চোখে পড়ে। জানাগেছে, তার পরিবারের লোক আসবে বলে কপিলমুনি বাজারের স্বর্ণ সমিতির সভাপতি মানিক লাল সিংহের কাছে একটা বড় ছাগল দাবী করেন এসআই আলীম। কপিলমুনি ইউনিয়ন কৃষকলীগ নেতা মো. হাফিজুর রহমান ও হ্যান্ডলিং শ্রমিক নেতা দয়াল ভান্ডারী বলেন, আলীম দারোগা মধ্যো রাতে মটোরসাইকেলের সাইরেন বাজিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেন, বয়োবৃদ্ধ বাচ্ছরা আলীম দারোগা নামের আতঙ্কে থাকেন। তা ছাড়া তিনি গভীর রাত পর্যন্ত মাদক বিক্রেতাদের সাথে সঙ্গদেন। জসিম উদ্দীন বলেন, একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটেচলা দারোগা আলীম টাকার নেশায় বিতর্কিত কাজের জন্ম দিয়ে চলেছেন। জিডি তদন্তের নামে হয় রফাদফা। আদালতে মামলা চললেও বিচার ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করেই ফাঁড়িতে শুরু করেন কাগজ পত্রের বিচার। হরিঢালী ইউনিয়ানের নগর শ্রীরামপুর গ্রামের সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তার স্ত্রী তহমিনা বেগম বলেন, আমাকে সর্বশান্ত করেছেন, এসআই আ. আলীম। তিনি জানান, নাছিরপুর খাসখালের পাশে ছোট একটি মাছের ঘের রয়েছে তার। পৈত্রিক ১০ বিঘার জমিতে দীর্ঘদিন মৎস্য চাষ করে আসছেন। পাশের ঘের মালিক আ. হান্নান ও দারোগা আ. আলীম যোগসাজস করে হঠাৎ একদিন রাতে ভরামাছ থাকা অবস্থায় মৎস্য ঘেরটি দখল করে দেন হান্নানকে। তহমিনা আলীম দারোগাকে জানালে সে বড় অংকের টাকার প্রস্তাব দিলে বিপাকে তহমিনা তার চাহিদা মত টাকা পুরন করলেও এখন পর্যন্ত মৎস্য ঘের ফিরে পায়নি। এ ঘটনায় মামলা হলেও মারামারির চার্জশিট ভাল দিবে বলে ৮ হাজার টাকা ও ৫ প্যাকেট বেনসেন সিগারেট নিয়েছেন তিনি। তার দাবীকৃত ঘুষের টাকা কম হওয়ায় পহেলা রমজানে আগের দিন সলুয়া গ্রামের মানষিক প্রতিবন্ধী হত দরিদ্র নুর ইসলামের পরিবারকে প্রতিপক্ষ দিয়ে কুপিয়ে মুত্যুর দিকে ঠেলেদিয়ে উল্টো তাদের নামে কেস নিয়ে জেলে পাঠন এসআই আ. আলীম। এ ব্যপারে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন ঐ পরিবার। এ ব্যপারে কপিলমুনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আ. রাজ্জাক রাজু বলেন, এসআই আলীম কাশিমনগর শাপলা চত্তরে রাতে ডিউটি না দিয়ে কানাইদিয়া খেয়াঘাট দিয়ে আসা নিয়মিত মাদক কারবারীদের সাথে বড় মাছ কাটার হোসেনের দোকানের পিছনে মাদক কারবারীদের সাথে গভীর রাত পর্যন্ত খোশ গল্পে মগ্ন থাকেন। তিনি আরো বলেন, আ. আলীম দারোগা চক্রবৃদ্ধিহারে উভয়ের কাছ থেকে ঘুষ নেন। যে বেশী দেয় তার পক্ষে রায় দেয়, নতুবা উভয়কে দীর্ঘ দিন ঝুলিয়ে রাখেন। তিনি আরও বলেন, আলীম নিজেকে এসপি, ডিআইজি সহ উপরী মহলের কথা বলে সাধারণকে ভয় দেখান। সে নিয়মিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছেন। সেই সাথে অলিখিত আদালত বসিয়ে ঘুষ বাণিজ্যের চরম পর্যায়ে পৌঁছায়েছেন তিনি। প্রতাপশালী দাম্ভিক এ পুলিশ কর্মকর্তা যাকে তাকে হেনাস্থা করে নিজের শক্তি সম্পর্কে জানান দেয়। কপিলমুনির ফিরোজ সরদারে স্ত্রী মৎস্য ঘেরের গন্ডগোলকে কেন্দ্র করে বেশী টাকা দিতে না পারায় তাকে স্থানীয় ফাঁড়িতে ডেকে নিয়ে চরম অপমান করেন এসআই আলীম। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।