ভয়াল আইলার আজ ১৩ তম বর্ষপূর্তি। ঘুরে দাড়াতে পারেনি দাকোপের আইলা ক্ষতিগ্রস্থ দু’টি ইউনিয়নের মানুষ। অভ্যান্তরীন সড়ক যোগাযোগে বেহাল অবস্থা, খাবার পানির তীব্র সংকট আর কর্মসংস্থানের অভাবে অধিকাংশ মানুষ এলাকা ছাড়া।
২০০৯ সালের ২৫ মে আঘাত হানা প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় খুলনার উপকুলিয় উপজেলা দাকোপের দু’টি ইউনিয়ন। বেড়ীবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় সুতারখালী ও কামারখোলা ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষ মানুষ। গৃহহারা মানুষের ঠাঁই হয় বেড়ীবাধের উপর। ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামতে নানামূখী উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে সেনাবাহিনীর তত্তাবধানে নির্মিত হয় বাঁধ। দীর্ঘ ২১ মাস পর পানিবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি ঘরে ফিরে যায় তারা। তবে নদী ভাঙনে ভিটে হারা ভূমিহীন অনেক পরিবার ঘরে ফিরতে পারেনি। তখন সরকারী বেসরকারী ত্রান সহায়তাই ছিল তাদের বেঁচে থাকার ভরসা। গত ১৩ বছরে সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। ধীরে ধীরে বন্দ হয়ে গেছে সকল ধরনের ত্রান সহায়তা। কিন্তু সেখানকার জনসাধারণ এখন সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। ওই এলাকার মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান উৎস্য নদী থেকে চিংড়ী পোনা ও বনজ সম্পদ আহরন। বর্তমানে পোনা আহরণ নিষিদ্ধ। আর বনজ সম্পদ আহরণ অনেকাংশে কমে এসেছে। কর্মহীন মানুষ জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন শহরে শ্রম বিক্রি করছে। সুতারখালীর ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মোন্তাজ আলী সানা বলেন, এলাকাবাসীর অন্যতম সমস্যা জীবন ধারনে খাওয়ার পানির তীব্র সংকট। আমরা বাধ্য হয়ে পুকুরের অনিরাপদ পানি পান করে থাকি। অভ্যান্তরীন যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যান্ত নাজুক। মান সম্মত জীবন ব্যবস্থার কিছুই নেই আইলা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায়। কামারখোলা ইউপির ২ নং ওয়ার্ডের নদী তীরে বসবাসকারী ইমরান গাজী বলেন, শত বাধা পেরিয়ে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য কৃষি কাজে মনযোগী হই। কিন্তু সেখানেও পাওয়া যাচ্ছেনা শ্রমের মজুরী। বাজার অব্যবস্থাপনার জন্য এবার চাষিরা নিঃস্ব হয়ে গেছে। সুতারখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির বলেন, টেকসই বাঁধ নির্মানে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সরকার বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না থাকায় সেই বাঁধ ও হুমকির মুখে। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না হওয়া পর্যন্ত চিংড়ী পোনা আহরনে আইনের শিথিলতার দাবী করেছেন তিনি। কামারখোলা ইউপি চেয়ারম্যান পঞ্চানন মন্ডল বলেন, অভ্যান্তরীন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এই দু’টি ইউনিয়নে বিশেষ বরাদ্দ দরকার। পাশাপাশি তরমুজসহ কৃষি কাজে চাষিদের লাভবান করতে বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন দরকার। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিন্টু বিশ্বাস বলেন, সরকার গৃহহীনদের পূর্নবাসনে জায়গাসহ ঘর নির্মান করে দিয়েছে। পাশাপাশি রাস্তা ঘাটের উন্নয়নে স্থানীয় চাহিদাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পানিয় জলের সংকট নিরসনে সরকারী বেসরকারী উদ্যোগে পানি সংরক্ষনে ট্যাংকি বিতরন করা হচ্ছে। তা ছাড়া কৃষির উন্নয়নের জন্য খাল খননসহ সেচ পানির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইলার ১৩ তম বর্ষ পূর্তিতে দাকোপের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ কর্মসংস্থান, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং পানিয় জলের সংকট নিরসনে সরকারের বিশেষ বরাদ্দের দাবী জানিয়েছে।