গাছে গাছে ঝুলছে লাল টস টসে লিচু। লিচুর ভারে মাটিতে ছুঁই ছুঁই অবস্থা।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় এ বছর দেশী জাতের লিচুর ভালো ফলন না হলেও চায়না-৩ ও বোম্বাই জাতের লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন জাতের ফল উৎপাদন হয়। এর মধ্যে ৭৫ হেক্টর জমিতে শুধু লিচু চায় হয়। উপজেলার আজমপুর, রামধননগর, রাজাপুর, চানপুর, কলাণপুর, আনোয়ারপুর, কর্মমঠ, ঘাগুটিয়া, শিবনগর, মনিয়ন্ধ, খারকোট, ও মিনারকোট গ্রামে বেশি লিচু চাষ হয়। উপজেলার চানপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়. লাল লিচুতে রঙ্গিণ হয়ে আছে পুরো এলাকা। বাগানগুলোতে থোকায় থোকায় ঝুলছে লিচু। কাঁচাপাকা বাহারি লিচুতে সবার যেন মন কেড়েছে। সেই সাথে লিচুর মৌ মৌ গন্ধে পুরো এলাকা এখন মুখরিত হয়ে উঠেছে। লিচু চাষী, ব্যবসায়ি ও পাইকারদের আনাগোনায় এলাকাও গম গম করছে। বাগান গুলোতে গাছ থেকে লিচু পেড়ে বাজারজাত করতে গ্রামের নারী-পুরুষসহ সব বয়সের লোকজন ব্যস্ত সময় পার করছেন। চানপুর গ্রামের বি এম ফরহাদ নামের এক যুবক জানায়, আমাদের গ্রামটি লিচুর গ্রাম হিসাবেই পরিচিত। গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ বছরের পর বছর ধরে বাণিজ্যিক ভাবে লিচু চাষ করে আসছে। আমাদের গ্রামে এমন কোনো বাড়ি নেই যেখানে ৮/১০টি লিচু গাছ নেই। লিচু সুমিষ্ট ও স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় জেলা শহরসহ সারাদেশে এখানকার লিচুর বেশ কদর রয়েছে। উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামের লিচু চাষী দুলাল ভঁইয়া ভোঃকাঃ জানান, আমার বাগানে বিভিন্ন জাতের ৩৭ টি লিচু গাছ রয়েছ্। আবহওয়া অনুবুল না থাকায় এবার দেশী ও পাটনা জাতের লিচুর ফলন তেমন ভালো হয়নি। এ ছাড়া কালবৈশাখী ঝড়ের কারণেও অনেক ক্ষতি হয়েছে। তবে আমার বাগানের বোম্বাই ও চায়না জাতের লিচুর ফলন তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো হয়েছে। এ জাতের লিচু পাকতে শুরু করেছে। আশা করছি জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই গাছ থেকে সব লিচু নামানো যাবে। কর্মমঠ গ্রামের সোহাগ সরকার জানায়, আমাদের বাগানে বিভিন্ন জাতের ১০১টি লিচু গাছ আছে। এবার অন্যান্য জাতের চেয়ে চায়না-৩ ও বোম্বাই জাতের লিচুর ফলন আমার বাগানে অনেক ভালো হয়েছে।তিনি আরো জানান, এবার লিচু বড় ও দেখতে সুন্দর হওয়ায় দামও ভালো পাচ্ছি।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সাদেক আলী নামের এক পাইকার জানান, এবার দেশী জাতের লিচু কেনাবেচা করতে গিয়ে অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে। আশা করছি বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচু বিক্রি করে সেই ক্ষতি অনেক টা পুষিয়ে নেওয়া যাবে।স্থানীয় বাজারে এখানকার ১০০ লিচু ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয় বলে তিনি জানান। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আমজাদ হোসেন নামের আরেক পাইকার বলেন, এখানকার লিচুর গন্ধ ও স্বাদের ভিন্নতা রয়েছে। তাই ক্রেতাদের কাছে চাহিদাও অনেক বেশি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, লিচু চাষের জন্য এখানকার মাটি খুবই উপযোগী। এখানে দেশী জাতের লিচুর পাশাপাশি বোম্বাই, চায়না ও পাটনা জাতের লিচু চাষ করা হয়। এ বছর দেশী ও পাটনা জাতের লিচুর ফলন ভালো না হলেও বোম্বাই ও চায়না জাতের লিচুর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। লিচুর ফলন বৃদ্ধিতে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।