খুলনার পাইকগাছায় গুরুত্বর জখম ঘটনায় এমসি রিপোর্ট পর্যালোচনা ছাড়াই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আবদুল আলিম। রোববার এমন অভিযোগ এনে কপিলমুনি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভক্তভোগী গফূরুন্নেছা বেগম ওরফে খুকুমনি। সংবাদ সম্মেলনে তার পক্ষে ছেলে ইউনুচ লিখিত বক্তব্যে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ যেখানে সর্বত্র, সেখানে রক্ষণশীল ভূমিকা না রেখে ষড়যন্ত্রকারী প্রতিপক্ষের পক্ষনিয়ে টাকার বিনিময়ে পক্ষপাত মুলক আচারণ, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীদের সতর্কবার্তাসহ মামলার চার্জশিটে প্রকৃত ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করেছেন কপিলমুনি ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আবদুল আলীম। তিনি বলেন, এসআই আলিম কর্তৃক দুর্বল চার্জশিট দাখিলের কারণে আমরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও সুবিচার নিয়ে চরম হতাশায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, গত ২ এপ্রিল তারিখে আমার উত্তর সলুয়া মৌজায় বিআরএস ৬৪, ১৬৪ খতিয়ানে ৬৭, ৬৮ দাগের ৮৪শতক জমির মধ্যে আমার প্রাপ্য ৪০শতক জমিতে প্রতিপক্ষ অহেদ আলীগং জবর দখল করে সেখানে ঘেরাবেড়া দেওয়ার সময় আমি সহ জমির অন্য শরীকগণ বাধা প্রদান করতে গেলে প্রতিপক্ষ অহেদগংরা পূর্বপরিকল্পিত ভাবে ঘেরাবেড়ার কাজে ব্যবহৃত দা, সাবল, কাচি, লাঠি নিয়ে আমিসহ শরীকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আমাকেসহ অন্যান্যের রক্তাক্ত জখম করে। এক পর্যায় আমাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় প্রেরন করেন। যা পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রিপোর্ট ঘটনা প্রমাণ করে। সেখানে জখমী দুইজনের মাথায় ও হাতে দেড়ইঞ্চি/হাফইঞ্চি, এক ইঞ্চি/হাফ ইঞ্চি এবং অপরটা ৩ইঞ্চি/হাফ ইঞ্চি/হাফ ইঞ্চি কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবদুল আলিম সেখানে মামলার চার্জশিটে এমসি রিপোর্ট পর্যালোচনা না করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আমার প্রতিপক্ষদের নামে জিআর ৫৮/২২নং মামলায় যেনতেন দায়সারা চার্জশিট দাখিল করেন। যাতে করে মামলায় সুবিচার থেকে বঞ্চিত হই। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষকে বাঁচাতে এমন চার্জশিট দাখিল করেছেন সংশ্লিষ্ট তদন্তকর্তা। সে বিচার প্রত্যাশী এক অসহায় নারী। তার স্বামী মানষিকভাবে দীর্ঘদিন অসুস্থ্য। এই সুযোগে প্রতিপক্ষ অহেদগং তাদের রেকর্ডীয় জমি জবর দখল করে নিচ্ছে। আর তাদের পক্ষেই প্রশাসন কাজ করে চলেছে, তাহলে সে কার কাছে যাবে, কে দেবে এই সমাধান? এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার আলোকে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আ. আলীম বলেন, চার্জশীট পচ্ছন্দ না হলে আদালতে না রাজি দেওয়ার সুযোগ আছে। টাকা নেওয়ার বিষয় বলেন, প্রমান ছাড়া এমন কথা বলা সম্মানক্ষুণছাড়া কিছুই না।