সন্ত্রাসী রহিম বাহিনীর হাত থেকে জীবন বাঁচাতে বৃদ্ধা মাতা জরিনা বেগম (৭০), ছেলে হাফেজ নজরুল ইসলাম, মেয়ে মেরিনা খাতুন, আমেনা খাতুনসহ স্বজনদের নিয়ে মণিরামপুর প্রেসক্লাবে হাজির হন। মঙ্গলবার বিকেলে (১৭মে) মণিরামপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। মণিরামপুরের শেখ পাড়া খাঁনপুর গ্রামের মৃত. মুক্তার গাজীর স্ত্রী বৃদ্ধা এ জরিনা বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জরিনার ছেলে হাফেজ রেজাউল ইসলাম। তিনি দাবী করেন ১৫৭নং খানপুর মৌজার ১৯৭৬ খতিয়ানে ৬৯০২ ও ৬৯০০ দাগে ৬৪ শতক জমিতে বোরো ধান চাষ করেন তারা। এ জমি নিজের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া এবং বোন ফুফাদের অংশ থেকে ক্রয়কৃত।
অভিযোগ করেন, বড় ভাই রেজাউল ইসলাম বিভিন্ন ভাবে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে মেঝ ভাই হাফেজ নজরুল ইসলামের এই জমি দখল করেন। চলতি বোরো মৌসুমে হাফেজ নজরুল ইসলাম নিজেই এ দু’দাগে ৬৪ শতক জমিতে বোরো ধান চাষ করে। যথারীতি গত ঈদের আগে ধান কাটা হয়। এরপর বিচালি বেঁধে বিপত্তি। বড় ভাই রেজাউল ইসলাম ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে বাড়িতে ধান তুলতে বাঁধা দেয়। একপর্যায়ে জীবন সংশয়ের মধ্যে পড়েন হাফেজ নজরুল ইসলাম।
অবশেষে মণিরামপুর থানায় বিষয়টি নিয়ে দু’দফায় লিখিত ভাবে জানানো হয়। নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরও পুলিশের কোন সহযোগিতা পায়নি তিনি। নিরুপায় হয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যান এবং ধান লুটকারীদের জমিতেই হাতেনাতে ধরেন। কিন্তু পুলিশের ভূমিকা বেশিক্ষণ থাকেনি। পরবর্তীতে পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকার মধ্যে ৬৪ শতক জমির মধ্যে ৪০ শতক বোরো ধান জমি থেকে সন্ত্রাসী রহিম বাহিনীর লোকজন তুলে বাড়িতে নিয়ে যায়।
এ সময় ধান নেওয়ায় বাঁধা দিতে গেলে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁকেসহ পরিবারের লোকজনদেরকে খুন-জখম করার হুমকি দেয়। এরপরও রক্ষা হয়নি, রহিম ও তার বাহিনীর লোকজন হাফেজ নজরুল ইসলামকে জানিয়েছে এ জমি তাঁর বড় ভাই রেজাউল ইসলামের কাছ থেকে লীজ নিয়েছে।
অবশ্য নজরুল ইসলাম জানিয়েছে, থানা পুলিশ আমাকে কাগজ পত্রসহ হাজির হতে বলেন থানাতে। যথারীতি হাজির হয়ে জমির সমুদয় কাগজপত্র দেখে শুনে আমার জমি তা প্রমাণ করাতে সক্ষম হয়েছি। তারপরও পুলিশ আমাকে কোন প্রকার সহযোগিতা দেখায়নি। থানার এএসআই আবদুর রহমান এবং সরজিৎ বিশ^াস আমার অভিযোগের দায়িত্ব পেয়ে উল্টো কাজ করেছে রহিম বাহিনীর পক্ষে।
তারপরও আশা নিয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা গোয়েন্দা সংস্থা দপ্তরে বিষয়টি লিখিত ভাবে জানিয়েছি। তারপরও সমাধান না হওয়ায় জমিতে অল্প কিছু ধান রয়েছে যা রোদ বৃষ্টিতে সমুদয় নষ্ট হওয়ার পথে। এ কারনেই নিরুপায় হয়ে সাংবাদিকদের কাছে সহযোগিতার দাবী নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা।
নজরুল ইসলাম আরও জানিয়েছে, বড় ভাই রেজাউল ইসলাম এ জমি নিয়ে গত ৬/৭বছর অহেতুক ভাবে হয়রানি করে চলেছে। এ নিয়ে পৃথক দুটি মামলাও করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মা জরিনা বেগম ছাড়াও মেয়ে মেরিনা, আমেনা কান্নাজড়িত কণ্ঠে রহিম বাহিনীর হাত থেকে জীবন বাঁচতে সাংবাদিকদের কাছে আকুতি জানায়। এ সময় তাঁদের ফুফা আবু মুছাসহ গ্রামের অন্যান্য লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সন্ত্রাসী রহিম বাহিনীর প্রধান আবদুর রহিম মাছনা গ্রামের শহর আলীর ছেলে। সে একাধিক মামলার আসামি বলেও জানা গেছে। তার সাথে এলাকার চিহিৃত অনেক সন্ত্রাসী রয়েছে বলে জানা গেছে।