দিঘলিয়া উপজেলায় বিএনপির গৃহকোন্দল এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। গত শনিবার দু'গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক শরীফ মোজাম্মেল হোসেন ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি সরোয়ার মোল্লা খুলনার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহতদের অন্যরা সরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়াও বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা এ সময় লাঞ্চিত হয়েছেন। মাঠ পর্যায়ের প্রতিযোগিতাই এ সংঘর্ষের বহিঃপ্রকাশ। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় দু' দশক ধরে বিএনপির এককভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দিঘলিয়া বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান মিন্টু। সম্প্রতি সাইফুর রহমান মিন্টুর নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করে উপজেলার অপর একটি গ্রুপ মাঠ দখলের চেষ্টা করলে এ সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। অপর গ্রুপটির নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক আবদুর রকিব মল্লিক ও শরীফ মোজাম্মেল হোসেন। এক সূত্র থেকে জানা যায়, গত শনিবার কেন্দ্রীয় বিএনপির দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা জেলা ও মহানগর বিএনপি কর্মসূচি গ্রহণ করে। দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা ওই কর্মসূচীতে পৃথক পৃথকভাবে অংশগ্রহণ করে। ওই কর্মসূচীতে অংশ নেওয়ার জন্য বিকেল ৩ টায় সেনহাটি থেকে দু'গ্রুপের নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথক ট্রলারযোগে খুলনা জেলখানা ঘাটে পৌঁছানো মাত্র দু'গ্রুপে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ সময় ব্যাপকভাবে ইট পাটকেল ছুঁড়া হয়। এ সময় দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক শরীফ মোজাম্মেল হোসেন ট্রলার থেকে ভৈরব নদীতে পড়ে যায়। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম সাইফুর রহমান মিন্টু এ প্রতিবেদককে বলেন, ট্রলারযোগে নেতা কর্মীরা খুলনা কর্মসূচীতে যায়। ট্রলার থেকে নামার সময় কর্মীদের মাঝে ধাক্কাধাক্কি হয়। এ সময় শরীফ মোজাম্মেল হোসেন নদীতে পড়ে যান। কোন সংঘর্ষ হয় নি। আমি যে টৃরলারটিতে ছিলাম সেটা বিকল হয়ে যাওয়ায় খুলনা পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। আমি শরীফ মোজাম্মেল হোসেনের সাথে হাসপাতালে দেখা করেছি। তিনি সুস্থ আছেন। এ ব্যাপারে শরীফ মোজাম্মেল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার উপর হামলা ছিল পরিকল্পিত। তিনি আরও জানান, এ হালায় ৩০/৩৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। যাদের অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের মধ্যে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব খন্দকার ফারুখসহ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী রয়েছেন।