দিঘলিয়ায় সরকারি গাছ লোপাটের ঘটনায় যুবলীগ নেতা সাময়িক বহিস্কার সরকারি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া ও তদন্ত রিপোর্ট বানচালে জোর তদবীর। সরকারি গাছ লোপাটের সঙ্গে জড়িত যুবলীগ নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে দিঘলিয়াবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা মোড়ে আগামীকাল সকালে মানববন্ধনের ডাক।
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট এলাকায় টেন্ডারের আড়ালে শতাধিক সরকারি গাছ লোপাট হওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী, উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সুত্রে জানা যায় টেন্ডারের বাইরে কয়েক লক্ষাধিক টাকার মূল্যবান গাছ ইতিমধ্যেই কেটে ফরমাইশখানাসহ বিভিন্ন জায়গায় আনলোড করা এবং ৮/১০ টা নছিমন ভর্তি করে ৩/৪ দিনে অন্যত্র পাচার করা হয়েছে। জানা যায় গত ৩ মার্চ দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে গাজীরহাট ইউনিয়নের মাঝিগাতি থেকে সোনাকুড় সড়কের রাস্তার দু'পাশে অবস্থিত মরা/শুকনো ৩৩৭ টি গাছ প্রকাশ্য নিলামে কার্যাদেশ পায় উপজেলা যুবলীগের সদস্য এসএম হাবিবুর রহমান তারেক নামের ঠিকাদার। তিনি ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকায় সর্বচ্চ দরদাতা হওয়ায় তাকে গত ৫ এপ্রিল থেকে ৫ মে ২০২২ তারিখের মধ্যে ওই মরা/শুকনো গাছগুলো কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় অতিক্রমের পরও দেদারসে কাটা হচ্ছে জীবন্ত গাছ। সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায় এখনো ৮-১০ টি মরা/শুকনো গাছ কর্তন করা হয়নি এই গাছগুলো রেখে অবৈধভাবে জীবন্ত মুল্যবান গাছ কেটে নদী পার করে দ্রুত সরিয়ে ফেলছে। এভাবে টেন্ডারের বাইরে শতাধিক গাছ কেটে নিয়েছে এই চক্রটি যার আনুমানিক বাজার মুল্য কয়েক লাখ টাকা। বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায় ঠিকাদার এস এম হাবিবুর রহমান তারেক দিঘলিয়া উপজেলা যুবলীগ নেতা, দিঘলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং স্থানীয় সাংসদ আবদুস সালাম মূর্শেদীর আস্থাভাজন। স্থানীয় এলাকাবাসী এই প্রতিনিধিকে বলেন হাবিবুর রহমান তারেক এমপি সালাম মূর্শেদীর কাছের লোক অপরদিকে তার সাথে রয়েছে গাজীরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম ঠান্ডু'র ভাই হামিম মোল্লার সুসম্পর্ক। তারা সকলে প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন কেউ মুখ খুলতে সাহস না পেলেও সর্বশেষ উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে এলাকাবাসী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম সাংবাদিকদের বলেন প্রাথমিকভাবে টেন্ডারের বাইরে গাছ কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে তাই অধিকতর তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ আলীমুজ্জামান মিলন কে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটি আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট তদন্ত রিপোর্ট জমা দিবে বলে জানা যায়। সচেতন মহলের ধারনা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে দেদারসে লাখ লাখ টাকার গাছ চুরি ও প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে আগামী রোববার মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী। গতকাল (শনিবার) দিঘলিয়া উপজেলা যুবলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় চলমান কমিটির সদস্য এস এম হাবিবুর রহমান তারেক কে সংগঠন বিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকায় তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে এবং উপজেলা যুবলীগ গাছ চুরির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাংগঠনিকভাবে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। দিঘলিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শেখ মনিরুল ইসলাম যুবলীগ নেতা তারেকের বহিষ্কার ও তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে সরকারি গাছ আত্মসাতের প্রতিবাদে যুবলীগ নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আগামীকাল দিঘলিয়া উপজেলা মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে দিঘলিয়াবাসী।