খুলনার ডুমুরিয়ার রুদাঘরা গ্রামে আদালতের নির্দশনা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী কর্তৃক এক হতদরীদ্র বিধবা নারীর রান্না ঘর ভাংচুর ও গাছপালা কেঁটে জমিতে ঘেরা বেড়া দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য রোজিনা পারভিন বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেছেন।
থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার রুদাঘরা গ্রামের মৃত সাহেব আলী গাজীর বিধবা মেয়ে লতিফা বেগম গংদের সাথে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস (৪২) ও তার সহযোগিদের রুদাঘরা মৌজার আর,এস ৪৫৭ নং খতিয়ানের ৯১৯৯,৯১৯৮ ও ৯২০০ দাগের মধ্যে ১.১৪৫০ একর বাস্তুু ভিটার জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
একপর্যায়ে গত শুক্রবার সকালে শহিদুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা জোর পূর্বক লতিফা বেগম এর বসত ভিটায় অনাধিকার প্রবেশ করে রান্না ঘর,বাথরুম ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়াসহ রান্নাঘরে থাকা জ¦ালানী কাঠ,তৈজষপত্র, গাছের নারকেল পেড়ে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জমিতে থাকা বাঁশ,লেবু,কলাগাছসহ ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেঁটে ক্ষতি সাধন করা হয়েছে।যার আনুমানিক ক্ষতি দেড় লাখ টাকা বলে দাবী করা হয়েছে।
এ ছাড়া জমির পাশে বাঁশ পুতে নেট জাল টানিয়ে ঘেরা বেড়া দেয় এবং জমিতে একটি ধানের গোলা রেখে জবর দখল করে নেয়া হয়েছে।
এ সময় বাঁধা দিতে গেছে শহিদুল ইসলামের ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী লতিফা বেগম ও তার বোন রোজিনা পারভীন কে মারপিট করে আহত ও লাঞ্চিত করে এবং জীবন নাশসহ বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দেয়।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী ভূক্তভোগী রোজিনা পারভীন বলেন, বিরোধীয় ওই জমি আমরা মাতুল(মামা বাড়ির) সূত্রে ওয়ারেশ হিসেবে মালিক হয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগ দখলসহ বসবাস করে আসছি।ওই জমির পার্শ্ববর্তি বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বিগত ২০১৮ সাল থেকে আমাদের ওই জমি থেকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। যার প্রেক্ষিতে আমি(রোজিনা পারভীন) বাদী হয়ে শহিদুল ইসলামসহ তার সহযোগিদের বিবাদী করে খুলনার বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করি।যার মামলা নং এমপি ৩০৭/১৮(ডুমুরিয়া)ধারা ১৪৫/১৪৬ তারিখ ২৬-০৪-২০১৮।বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া বিরোধীয় জমি নিয়ে খুলনার ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে রেকর্ড সংশোধনীর আরো একটি মামলা চলমান রয়েছে।
অথচ বিবাদী শহিদুল ইসলাম আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে গত শুক্রবার তার আত্মীয়স্বজন এবং ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী ভাড়া করে এনে জোর পূর্বক আমাদের ঘর ভাংচুর,গাছ পালা কেঁটে নেয়াসহ জমিতে ঘেরা বেড়া দিয়ে জবর দখলে নিয়েছে। তিনি আরো জানান,বিগত দুই বছর ধরে শহিদুল ইসলাম একাধিক বার আমাদের এই জমি জবর দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলাম বিশ্বাসের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আমি তো আমাদের ক্রয়কৃত জায়গা থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করেছি। আমরা জমির রেকর্ডীয় মালিক রোজিনার মামা আবদুল হাই এর কাছ থেকে ১৮ শতক জমি কিনেছি যা রোজিনারপরিবার-পরিজনেরা অবৈধভাবে জবর দখল করে রেখেছিলো।
তিনি আরো জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিক বার শালিশী মিমাংশা করলেও ওরা তা মানেনি।
এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ সেখ কনি মিয়া বলেন, রোজিনা পারভীন বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়ীত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে পরবর্তি আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।