খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট এলাকায় টেন্ডারের আড়ালে শতশত সরকারি গাছ চুরির মহোৎসব শুরু হয়েছে। সাম্প্রতি মৃত ও শুকনো গাছ টেন্ডার দিলেও সুস্থ সবল তাজা মূল্যবান গাছ কর্তন করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। এই ঘটনা নিয়ে গোটা উপজেলা এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে একদিকে যেমন ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে অপর দিকে উপজেলার সর্বত্র ও সর্বমহলে হৈচৈ পড়ে গেছে। উপজেলার সর্বমহলে জোর দাবী উঠেছে তদন্ত সাপেক্ষে সরকারি রাস্তার গাছ চোর সিন্ডিকেটের তদন্ত সাপেক্ষে আইনের কাঠগোড়ায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। এদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ আলীমুজ্জামান মিলনকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সড়কের দুই পাশের শতাধিক গাছ চুরির প্রতিবাদে আগামী রোববার সকালে উপজেলা সদরে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে এলাকাবাসী।
অপর দিকে এক সূত্র থেকে জানা গেছে, সরকারের কয়েকটা গোয়েন্দা সংস্থা গতকাল সারাদিন অনুসন্ধান করে টেন্ডারের বাইরে শতাধিক গাছ কাটার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। গাছ চুরির অভিযোগে উপজেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম বলেছেন কেউ অতিরিক্ত গাছ কর্তন করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, গত ৩ মার্চ দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় হতে গাজীরহাট ইউনিয়নের মাঝিরগাতি থেকে সোনাকুড় সড়কের রাস্তার দু'পাশে অবস্থিত মরা/শুকনো ৩৩৭ টি গাছ প্রকাশ্যে নিলামে কার্যাদেশ পায় এসএম হাবিবুর রহমান তারেক নামের জনৈক ব্যক্তি। তিনি ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ায় তাকে গত ৫ এপ্রিল থেকে ৫ মে ২০২২ তারিখের মধ্যে ওই মরা ও শুকনো গাছগুলো কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে ওই ঠিকাদার নির্ধারিত মরা ও শুকনো গাছের পাশাপাশি শতাধিক তরতাজা জ্যান্ত গাছ দিনে-দুপুরে কর্তন করে পাচার করে দেয় যার আনুমানিক মূল্য কয়েক লাখ টাকা।
এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে অতিরিক্ত গাছ কর্তনে বাধা দিলে ঠিকাদার এস এম হাবিবুর রহমান তারেক তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি প্রদান করেন বলে এলাকাবাসী এ প্রতিবেদককে জানান।
এলাকাবাসী অসহায় হয়ে বিষয়টি দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরকে অবগত করেন যার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার উপজেলা বন কর্মকর্তাসহ সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দিনভর অনুসন্ধান করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অতিরিক্ত গাছ কর্তনের প্রমাণ মিলেছে। তাই অধিকতর তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমিকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট দাখিল করবেন।