বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে কমিটি ঘোষনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে নসরতপুর ইউনিয়ন নয় নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ওই ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি আবদুস ছালাম (২৬) ও সাধারন সম্পাদক হাজেদুল ইসলাম (২৫) কে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার মুরুইল এলাকায় একটি ধানের চাতালে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আদমদীঘি ও নসরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নসরতপুর ইউনিয়নের মুরইল বাজারের একটি চাতালে গত বুধবার সম্মেলনের শুরু হয় বিকেল চারটায়। নসরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম তালুকদার বাবলুর সভাপতিত্বে এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল। প্রধান বক্তা ছিলেন. জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুল আহম্মেদ খান রুবেল, সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাড. আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার রতন, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আবদুল মহিত তালুকদার, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সান্তাহার পৌরসভার বর্তমান তোফাজ্জল হোসেন ভ্ট্টুু, সাধারন সম্পাদক এস এম আখতারুজ্জামান মিঠু, সাবেক মেয়র ফিরোজ মো. কামরুল হাসান, আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ রফি আহম্মেদ আচ্চু, আবু হাসান, মাহাফুজুল হক টিকন, বগুড়া মহিলা দলের সহ-সাধারন সম্পাদক এইচ এম মুক্তাসহ নেতৃবর্গ। সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে আদমদীঘি সদর ইউনিয়ন ও নসরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ঘোষনার পরপর বাক বিতন্ডার একপর্যায়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ভাংচুর ও মারপিটে পাঁচজন বিএনপির নেতা আহত হয়। আহতদের মধ্যে নসরতপুর ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আবদুস ছালাম ও হাজেদুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা সদর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, বগুড়া জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ সম্পূর্ন অগণতান্ত্রিক ভাবে দুটি ইউনিয়ন কমিটি ঘোষনা করেছেন যা বিএনপি’র গঠনতন্ত্র বিরোধী। তিনি এই কমিটি বাতিলের দাবি জানান। আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাড. আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার রতনের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি। পরে বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুর বারী তালুকদার বেলাল মুঠোফোনে বলেন, বড় দল তেমন কিছু ঘটনা ঘটেনি। শুধু ধাক্কাাক্কির ঘটনা ঘটেছে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গেছে।