পারিবারিক বিরোধের জের ধরে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের সাবেক মহিলা সদস্য সহ তার ২ কন্যা প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে।
এলাকাবাসী, দিঘলিয়া থানা পুলিশ ও হামলার শিকার সাবেক মহিলা সদস্যের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। চিহ্নিত সন্তাসী হামলায় আহত বারাকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মহিলা সদস্য মর্জিনা বেগম মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, আমার স্বামী লাল মিয়া মল্লিক ১৯৯৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর ৪ কন্যাসন্তান নিয়ে একপ্রকার অসহায়ত্বের মাঝে পড়ি। ৪ কন্যার লেখাপড়া, তাদের ভরনপোষণ, পাশাপাশি স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তির দেখাশুনার দায়িত্বসহ সংসারের সকল সমস্যা একাই সামলাতে থাকি। এ ক্ষেত্রে আমার ভাসুরদের পরিবারের পক্ষ থেকে কখনও কোন সহযোগিতা পায়নি। তাদের পৃষ্ঠপোষকতার পরিবর্তে গত ৩/৪ বছর থেকে আমার বড় ভাসুরের ছেলেরা আমাকে আমার স্বামীর ভিটাবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য বিভিন্ন ধরণের ষড়যন্ত্র করে আসছে। জমিজমা নিয়ে ইতঃপূর্বে মামলাও হয়েছে। বিরোধের জের ধরে ইতঃপূর্বে আমার ৪ মেয়েসহ আমি তাদের দ্বারা একাধিকবার লাঞ্ছনার শিকার হয়েছি। আমার মেয়েদের উপর তারা হামলা ও মারধরও করেছে। তাদের এ হামলার ঘটনা বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশও হয়েছে।
সর্বশেষ বুধবার (১১ মে) সকালে আমার জমির উপর ১টি ঘর তুলতে গেলে আনুমানিক ১০ টার সময় আমার বড় ভাসুরের ২ ছেলে এবং তাদের স্ত্রী এবং তিন ছেলে মিলে আমার বাড়ির ভীতর প্রবেশ করে আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় তারা আমাকে এবং আমার অপর ২ মেয়ে শিউলী (২৬) এবং যমুনা (২৪) কে মারধোর করে আমার ২ মেয়েকে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আশেপাশের লোকজনের হস্তক্ষেপে তারা শান্ত হয়। খবর পেয়ে দিঘলিয়া থানা এবং কামারগাতী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলে। বর্তমানে আমার দুই মেয়ে আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আহসান উল্লাহ চৌধূরী এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনার সংবাদ শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠিয়েছি। এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষের কেউ থানায় অভিযোগ নিয়ে আসেনি।