খুলনার পাইকগাছায় রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর ১৩৩ তম জম্ম জয়ন্তী ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবারদুপুরে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-৬ সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু। প্রধান অতিথি বলেন, তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার বর্তমান খুলনা জেলার দক্ষিণাঞ্চলের পাইকগাছায় কপিলমুনিতে জন্ম নেওয়া দানবীর রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক ও জ্ঞান পিপাষু ব্যক্তি। তাঁর স্পর্শে কপিলমুনিতে একে একে গড়ে উঠেছিলো অসংখ্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান। শৈশব ও কিশোর জীবন পার হতে না হতেই তাঁর সমাজ সাধনার দিন শুরু হয়। তিনি মাত্র ১৩ বছর বয়সে নিজেকে ব্যবসায়ে জড়িয়ে ফেলেন। তৎকালীণ সময়ে ব্যবসার প্রসার বাড়াতে তিনি কলকাতার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে কপিলমুনির উন্নয়ন কাজ শুরু করেন। তাঁর ব্যবসায়ীক উপার্জনের টাকা দিয়ে বৃহত্তর কপিলমুনি মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করেছেন। মায়ের নামে সহচরী বিদ্যামন্দির (বর্তমানে স্কুল এ- কলেজ) ও ২০ শয্যা বিশিষ্ট ভরত চন্দ্র হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি এলাকার মানুষের বেকারত্ব ঘুচাতে প্রতিষ্ঠা করেন অমৃতময়ী টেকনিক্যাল স্কুল। তাঁর সমাজ সেবার পুরস্কার হিসেবে তৎকালীন সরকার তাঁকে রায় সাহেব উপাধিতে ভূষিত করেন। এমপি বাবু আরো বলেন, মাত্র ৪৫ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনের প্রতিটি ক্ষণ সমাজ তথা মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন তিনি। যখন খুলনা অঞ্চলে বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা ছিল না তখন তিনি কপিলমুনি বাজারকে আলোকিত করতে সুদূর কলকাতা থেকে জেনারেটর এনে তার মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করেন। এলাকার মানুষের সুপেয় পানির জন্য ‘সহচরী সরোবর’ নামে একটি বৃহৎ পুকুর খনন করেন। পাশাপাশি তাঁর নিজ অর্জিত টাকায় ক্রয় করে প্রায় ৫০একর সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিনোদগঞ্জ’ যা এখন কপিলমুনি বাজার নামে দেশ বিদেশে ব্যাপক পরিচিত। কপিলমুনিতে হাসপাতাল, খেলার মাঠ ও বিনোদনের জন্য পাবলিক স্টেডিয়াম সবই তাঁর স্মৃতি বহন করে। তিনি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় একই সময় প্রতিষ্ঠা করেন উৎকর্ষ সমিতি ও সিদ্ধেশ্বরী ব্যাংক (বর্তমান বণিক সমিতি)। কপিলমুনিতে ক্ষণজন্মা এই মহা মনিষীর জনহিতকর প্রতিষ্ঠান ও জনকল্যাণ মূলক কর্মকান্ডের জন্য তিনি অত্র এলাকার সকল মানুষের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বিনোদ স্মৃতি সংসদ সংগঠনের উদ্যোগে কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দির মাঠে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাড. দিপংকর কুমার সাহা। সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন রায় সাহেবের পৌত্র ভারত থেকে আগত গৌতম সাধু। ব্যাংকার এম আবু সাঈদের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু, পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক পাপ্পু কুমার দে, উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দীন ফিরোজ বুলু, ইউপি চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাস, কওছার আলী জোয়াদ্দার, জেলা আ.লীগের সদস্য শেখ আনিছুর রহমান মুক্ত, উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি সমীরন কুমার সাধু, যুগ্ম-সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস, ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি যুগোল কিশোর দে, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক জসিম উদ্দীন বাবু, জেলা যুবলীগনেতা শামিম সরকার, কপিলমুনি বণিক সমিতির সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক রাজু, বিনোদ স্মৃতি সংসদের সম্পাদক তাপস কুমার সাধু, অধ্যক্ষ হাবিবুল্লাহ বাহার, সহচরী বিদ্যামন্দিরের প্রধান শিক্ষক কবির আহম্মেদ ও মেহেরুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রহিমা আক্তার শম্পা প্রমুখ। এর আগে সকালে এ উপলক্ষে বনাঢ্য র্যালী ও মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।