খুলনা পাইকগাছায় স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলা করা হয়েছে। মামলা নং সিআর ৯৪৮/২১। বিজ্ঞ আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা দিয়েছেন। আসামি জাকিরুল ইসলাম পলাতক রয়েছে। অপর দুই আসামি তার পিতা মো. করিম গাজী ও মাতা মোছাঃ মনোয়ারা বেগম জামিনে রয়েছে। মামলা ও বাদীর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তকিয়া গ্রামের মো. করিম গাজীর পুত্র মো. জাকিরুল ইসলাম গদাইপুর গ্রামের মো. ফজলে করিম শেখের কন্যা মোছা. ফরিদা বেগমের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ২০২০ সালের ১ডিসেম্বর স্থানীয় মৌলভীর মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা দেনমহর ধার্যে অভিভাবকদের সম্মতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর ৪৪৯৯নং এফিডেভিট মূলে ঘোষণা প্রদান করে। স্বামী গৃহে সংসার শুরু করার কিছু দিন পর শ্বশুর মো. করিম গাজী ও শ্বাশুড়ীর মনোয়ারা বেগম এর প্রচারণায় জাকিরুল স্ত্রীর নিকট ব্যবসার জন্য ১ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে। যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় স্ত্রী ফরিদাকে মানসিক ও শারীরিক ভাবে নির্যাতন শুরু করে এবং খাওয়া পরা বন্ধ করে দেয়। সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর শ্বশুর শ্বাশুড়ীর প্রচারণায় স্বামী জাকিরুল ফরিদাকে মারপিট শুরু করলে উপায়ান্ত না পেয়ে ফরিদা তার পিতা মো. ফজলে করিম শেখকে আসামীদের বাড়ীতে ডেকে এনে ১ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে। যৌতুক দিতে না পারায় স্ত্রী ফরিদাকে গালিগালাজ করে তার সঙ্গে সংসার করবেনা বলে বাড়ী থেকে তাড়াইয়া দেয়। বর্তমানে ফরিদা তার পিত্রালয়ে মানবেতর জীবন যাপন করিতেছে। স্ত্রী ফরিদা বেগম স্বামী মো. জাকিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ও ৪ ধারায় মামলা করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাসির হোসেন জানান, গ্রেফতারী পরোয়ানা পাওয়ার পর আসামীকে ধরার জন্য তার বাড়ীতে একাধিকবার গিয়েছি, তবে তাকে বাড়ীতে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সে ঢাকায় অবস্থান করছে। আসামীকে গ্রেফতারের জন্য সব রকম প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে। থানার ওসি মো. জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, আসামীকে গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।