ঈদের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। নিজ আঙ্গিনায় ঈদ আনন্দ করতে ব্যস্ত সবাই। তবে আমাদের চারপাশে এমনও কিছু মানুষ আছে যাদের মনে ঈদ আনন্দ নেই। ভালো খাবর তো অনেক দুরের কথা সারাদিনে এক মুঠো ভাতও জুটেনি তাদেও কপালে। পরন্ত দুপুর। আখাউড়া রেলস্টেশনের ১ নং প্লাট ফরমের ওভার ব্রিজের নিচে লালবানুসহ আরো কয়েকজন নারী জটলা হয়ে বসে আছে। মুখে তাদের কথা না থাকলেও দু ’চোখে ক্ষুধা নিবারণ ও ভিক্ষা চাওয়ার চরম আকুতি। ঈদের আনন্দ নিয়ে তাদের মনে কোনো বাড়তি উৎসাহ-উদ্দিপনা দেখা যায় নি। দুপুরে কি খেয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ৭০ বছর বয়স্ক লালবানু নামের এক বৃদ্ধা নারী বলেন, বাবা কইতে খাইতাম, কয়েক টা টেহা ভিক্ষা পাইছি। এহন ইডা দিহা কিছু কিন না খামু। বৃদ্ধা লালবানুর বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হরষপুর গ্রামে। স্বামী মারা গেছেন সেই কবে। দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলে প্রতিবন্ধী। আরেক ছেলে থেকেও নেই। পরিবার নিয়ে আলাদা থাকেন। ভিক্ষ করে যা পান তা দিয়েই প্রতিবন্ধী ছেলের ও নিজের পেটের ক্ষুধা নিবারণ করেন। লালবানুর মতো বাকি নারীদের গল্পও ঠিক একই রকম। সেলি বেগম নামের আরেক নারী জানান, গেরামে গেরামে ভিক্ষা করি। যা পাই তা দিয়াই চলতে হয়। আজ ঈদের দিন হইলেও আমাদেও কি?। সারাদিন ভালা কিছুই জুটে নি। কে দিব ভালা খাওয়ন?। স্টেশনের দুই নং প্লাটফরমে হাত পেতে বসে আছে মুুজিবুর রহমান নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধি বৃদ্ধ। বাড়ি নেত্রকোণা জেলায়। তার কাছে ঈদ মানে ভালো কিছু খাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে দুপুর পর্যন্ত কিছু খেতে পারেন পাননি। সকালে শুধু পাঁচ টাকা দামের দুটি পাউরুটি ভাগ্যে জুটে ছিল । মুজিবরের পাশে বসেই প্রতিবন্ধি ছেলেকে খাওয়াচ্ছেন আয়েতুন নেসা নামের আরেক বৃদ্ধা নারী। তিনি জানান, ছেলেকে ঈদের দিনে জামা-কাপড় দেওয়া তো দুরের কথা ভালো কিছু খাওয়ানোর সামর্থও আমার নেই। এক বাড়ি থেইক্যা একটু সেমাই দিছিল তা ছেলে খাওয়ায়ছি। আর সারাদিন কিছুই দিতে পারেনি। নিজেও কিছু খাইনি।
পৌরশহরের কলেজ পাড়ার সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ি জানান, আগে মানুষের মাঝে যে হৃদ্যতা ছিল এখন তেমন একটা দেখা যায় না। আগে সবাই সবার বাড়ি যেত। ঈদের দিনে গরীব-দুঃখীদেও মাঝে ভালো খাবার বিলি করতো, তারপর নিজেরা খেত। এখন আন্তরিকতা অনেক কমে গেছে। আশা করি আবার সেই দিন ফিরে আসবে।