মুজিব বর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ৪৩টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে ঘর উপহার দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের আধা-পাকা এই ঘর উপহার হিসাবে দিতে যাচ্ছেন। ঈদুল ফিতরের আগে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৪৩টি পরিবার পাবেন প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর।
আগামী ২৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহহীন ও ভ’মিহীন পরিবারকে গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রম করবেন প্রধানমন্ত্রী।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন প্রথম ও দ্বিতীয় দাপের নকশা ও পরিকল্পনায় কিছুটা এবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। যার ফলে ঘরগুলো অনেক সুন্দও, টেকসই ও দূর্যোগ সহনীয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।ঈদের আগেই ঘরগুলো হস্তান্তর করা হলে তাদের মাঝে আনন্দের নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপশ চক্রবর্তী জানান, রঙ্গিণ টিনশেডের প্রতিটি একক ঘরে ইটের দেয়াল ও টিনের ছউনি দিয়ে তৈরি দুটি করে শোবার ঘর, একটি রান্না ঘর,টয়লেট ও সামনে খোলা বারান্দা রয়েছে। তিনি আরো জানান, এবারের ঘরগুলো আরো মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য কাঠামো নির্মাণে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভ’মি) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, “বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না” প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনাকে বাস্তবায়ন করতে সারাদেশের ন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলাতেও আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় গৃহ নিমার্ণের কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি আরো জানান, এ উপজেলায় এ প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ৬৫৩ জন। এর মধ্যে ৩৫৪ জন পৌরসভার ও ২৯৯ জন উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের নাগরিক। ইতঃপূর্বে প্রথম পর্যায়ে ৪৫ জনের মধ্যে সবাইকে ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ৬০৬ জনের মধ্যে ৫০ জন গৃহহীন পরিবারকে দুই শতক জমিসহ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা ঘর প্রদান করা হয়েছে। আগামী ২৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী এ উপজেলার ৪৩ জন উপকারভোগীর মাঝে ভ’মি ও গৃহ উপহার প্রদান করবেন। এই উপকারভোগীর মাঝে দ্বিতীয় পর্যায়ের বরাদ্দের ৪১ জন ও তৃতীয় পর্যায়ের বরাদ্দ পাওয়া দুই জন রয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে বরাদ্দ পাওয়া একজন পৌরশহরের এবং অপরজন উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের নাগরিক। ২য় পর্যায়ে ৪১ জন বরাদ্দপ্রাপ্তদের মধ্যে উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের পাঁচ জন, উত্তর ইউনিয়নের ১৬ জন ও ২০ জন মনিয়ন্ধ ইউনিয়নের নাগরিক।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আক্তার রোববার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, প্রশাসনের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ঘর নির্মাণ ও উপকারভোগী নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগের সাথে উপজেলার যারা সংশ্লিষ্ট তারা যার যার অবস্থান থেকে ভ’মিকা রেখেছেন। এই কর্মযজ্ঞে সম্পৃক্ত হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।