দেশের বৃহত্তম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ মোকামে নতুন ধানের সরবরাহ প্রতিদিনই বাড়ছে। প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার মণ ধান আসছে আশুগঞ্জ মোকামে।তবে পরবতর্েিত আশুগঞ্জ মোকামে ধানের সরবরাহ আরো বৃদ্ধিপাবে বলে এখানকান ধান ব্যবসায়ীরা বলছেন। তবে নতুন ধান আমদানীর পথে বড় বাধা মেঘনা নদীতে ডাকাতি। সুনামগঞ্জ,নেত্রকোনা,কিশুরগঞ্জ,মৌলভীভাজার এবং হবিগঞ্জের ধান ব্যবসায়ীরা বলছেন নৌপথের রাজাপুওে গত ৭/৮দিন ধরৈ নিয়মিত ডাকাতি হচ্ছে।
এবিষয়ে আশূগঞ্জ ধানের মোকামে গিয়ে জানা গেছে,বাংলা বছরের প্রথমদিন থেকেই আশুগঞ্জ মোকামে নতুন ধান আসতে শুরু করেছে। প্রথম প্রথম ধানের সরবরাহ কম থাকলেও দিন য়তই গড়াচ্ছে ধানের আমদানি বাড়ছে। তবে গতবছরের তুলনাই চলতি বছর ধানের সরবরাহ কম বলে জানান এখানকার চাতাল ব্যবসায়ীরা।এই মোকামে ধান বিক্রি করতে আসেন সুনামগঞ্জ,নেত্রকোনা,কিশুরগঞ্জ,মৌলভীভাজার এবং হবিগঞ্জের ধান ব্যবসায়ীরা। কিশোরগঞ্জের মিঠামইণ উপজেলার সজল মিয়া বলেন,উজানের পানি এবং পাহাড়ী ঢলে প্রচুর ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। আধাপাকা ধান কোনরকমে কেঠে এনে আশুগঞ্জ মোকামে বিক্রি করতে নিয়ে এসেছি। প্রতিমণ ধান নয়শত টাকায় বিক্রি করেছি। এতে ধান কাটার শ্রমিক,সার পানি খরচ বাদ দিলে উৎপাদন খরচই পায়নি। তিনি আরো বলেন,পানিতে আমার ৭বিঘা ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।এদিকে আশুগঞ্জ মোকামে ব্রি-২৮ ধান প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে নয়শত টাকা থেকে সাড়ে নয়শত টাকায়.ব্রি-২৯ ধান প্রতিমিণ ধান বিক্রি হচ্ছে আটশত থেকে সাড়ে আটশত টাকায় এবং মোটা ধান( হিরা) প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে সাতশত থেকে সাতশত ত্রিশ/চল্লিশ টাকায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাতালকল মালিক সমিতির নেতা হাজী দানা মিয়া বলেন,আশুগঞ্জ মোকামে বর্তমানে ধানের যে মুল্য তা ঠিক আছে।কালণ এখন কাঁচা ধান আমরা কিনছি। একমণ কাঁচা ধান শুকিয়ে আমরা তিশ কেজি ধান াপয়।।এই অবস্থায় একমণ ধানের মুল পড়ছে প্রায় এক হাজার টাকার উপরে। তাছাড়া এই কাঁচা ধানে ক্রাশ করার পরে চাউলে ১৩/১৪ কেজি হয়।এ হিসাবে বর্তমানে আশুগঞ্জ মোকামে ধানের মুল্য বেশী আছে বলে আমরা মনে করি।
এদিকে আশুগঞ্জ মোকামে ধান নিয়ে আসার বড় বাধা এখন নদী পথে ডাকাতি। নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ির ধান ব্যবসায়ী বলেন,সরাইল উপজেলার দুবাজাইল এবং রাজাপুর আসলেই ডাকাতের কবলে পড়তে হয়। নৌ-পুলিশ থাকলেও তারা ডাকাতি প্রেিরাধে এগিয়ে আসে না।পুলিশকে নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করতে দেখা গেছে। তাছাড়া শনিবার সকালে মেঘনা নদীর সরাইল উপজেলার রাজাপুর নামকস্থানে পাচটি ধান বোঝাই নৌকায় ডাকতির ঘটনা ঘটেছে।এরমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলা জয়ধরকান্দি গ্রামের সামসুল হক বলেন,শনিবার মকাল সাড়ে ৭টায় আমার নৌকাটি ধান নিয়ে রাজাপুরের নদীর মোড় পার হওয়ার পরপরই ডাকাতদল আমার নৌকায় আক্রমণ করে নৌকার লোকদের দেশীয় অস্ত্রদিয়ে বেধড়ক মারধর করতে থাকে।্এসময় ডাকাদল আমার নৌকা থেকে নগদ ৭০হাজার টাকা এবং পাচটি মোবাইিল সেট নিয়ে যায়।এতে বাধা দিতে গিয়ে পাচজন লোক আহত হয়। অপরদিকে কিশোরগঞ্জের নিকলী থেকে ধান নিয়ে আসা জোবায়েদ জানান,শনিবার ভোর ৬টা থেকে একইস্থানে আরো ৪ুিট নৌকায় ডাকতি হয়েছে। আমরা এই ডাকাতি বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তাছাড়া রাজাপুরের মেঘনা নদীতে গত ৭/৮দিন ধরে নিয়মিত ডাকাতি হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।সারা পথ নিরাপদে আসলেও রাজাপুওে এসে আমাদেও জানমালের কোন নিরাপত্তা নাই।
এ বিষয়ে নৌ-পুলিশের দুবাজাইল ফাড়ি ইনচার্জ মো.সালাম বলেন, রাজাপুরের মেঘনা নদীতে ডাকাতির বিষয়ে আমি কিছ জানি না। কারণ প্রতিদিন ভোর পাচটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে নৌ-পুলিশের টহল থাকে।
এদিকে কিশুরগঞ্জ অঞ্চলের নৌপুলিশের অতিরিক্তি পলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন,ডাকাতির বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই।তবে এধরনের ডাকাতি হয়ে থাকলে ডাকাতি বন্ধে আমরা প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করব যেন আর ডাকাতি না হয়।