দিঘলিয়ার সেনহাটি ভ্যানচালক ইমরাণ হত্যায় দুই যুবকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। এই হত্যাকা-ের সাথে সরাসরি জড়িত তিন যুবককেই হত্যার সাড়ে ৭ মাসের মাথায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সামান্য একটি ভ্যানের কারণেই খুন করা হয় ১৪ বছর বয়সী কিশোর ইমরাণকে। হত্যার দায় স্বীকার করে ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছে হত্যার সংগে জড়িত আসাদুল (২৫) এবং আলামিন (২৪) নামে ২ যুবক। দু’জনের বাড়ি দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর গ্রামে। ২২ এপ্রিল শুক্রবার বিশেষ ব্যবস্থায় আদালতে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট এর উপস্থিতে তারা দু’জন কিশোর ইমরানকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৫ এপ্রিল দিঘলিয়া থানা পুলিশ আসাদুল এবং আলামীনকে আটকের পর মামলার তদন্তকারী সংস্থা খুলনা নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নৌ পুলিশের এসআই নূরুল ইসলাম আটককৃতদের ইমরান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবারে ঘাতকরা তাকে হত্যা করে।
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি গ্রামের হতদরিদ্র পিতা মিঠুর পুত্র ইমরান পান্তা ভাত খেয়ে সকাল আনুমানিক ৭ টার দিকে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। একই দিন বিকালে দিঘলিয়া গ্রামের খলিলের ইট ভাটার কাছে ভৈরব নদীর তীর থেকে দিঘলিয়া থানা পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। মৃতের গলায় ফাঁসের চিহ্ন ছিল। ঘটনার ১ দিন পর নিহতের পিতা মিঠু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গুম ও হত্যা আইনে দিঘলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৫, তারিখ ৪/৯/২০২১ ইং।
মামলা দায়েরের পর দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আহসানউল্লাহ চৌধূরীর নির্দেশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত শুরু করে হত্যার প্রকৃত মোটিভ উদ্ধারের জন্য। কোন সংঘবদ্ধ চক্র ছেলেটিকে হত্যা করে ভ্যানটি নিয়ে যায় এই ধারণাকে সামনে রেখে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে নৌ-পুলিশের কেএমপি সদর নৌ-থানায় মামলাটি হস্তান্তর করা হয়।
খুলনা নৌ পুলিশের এসআই মোকলেছুর রহমান মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন। তদন্ত কর্মকর্তা বদলী হলে বর্তমানে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নূরুল ইসলাম মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন।
মামলার তদন্তভার নৌ- পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর নৌ- পুলিশ তাদের মত করে তদন্ত শুরু করে। এরইমধ্যে গত ১৫ এপ্রিল দিঘলিয়া থানা পুলিশ অন্য একটি মামলার আসামি ধরতে গিয়ে আসাদুল এবং আলামীনকে বারাকপুর থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা দু’জন কিশোর ভ্যান চালক ইমরানকে হত্যার কথা স্বীকার করে। তারা দু’জন সহ মোট ৩ জন মিলে গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করে লাশ ভৈরব নদীতে ফেলে দেয় বলে তারা তাদের স্বীকারোক্তিতে বলে। ইমরানকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়ে ৩ জনে ভ্যানটি নিয়ে বিক্রি করে বিক্রির টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়।। এদিকে ২২ এপ্রিল শুক্রবার গভীর রাতে খুলনা নৌ-পুলিশের অফিসার ইনচার্জ অনিমেষ হালদার এর নেতৃত্বে নৌ পুলিশের একটি দল দিঘলিয়া থানা পুলিশের সহযোগীতায় বারাকপুর গ্রাম থেকে হত্যাকান্ডের সংগে জড়িত অপর আসামি শরীফ ( ৩০) কে আটক করেছে।