যশোরের বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বেনাপোল বন্দরের ২২ নং শেড থেকে গত ৬/০১/২০২২ ইং তারিখে আমদানিকারকের ১৫০ প্যাকেজ সাব-মারসিবল পাম্প (এপিআই) জাল ডকুমেন্টস এ শাহজালাল নামক প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, দিঘলিয়ার হাতেম আলী শেখের পুত্র মোঃ আশরাফ হোসেন অমি ইন্টারন্যাশনালের মালিক। তিনি ২০০৯ সাল থেকে তাঁর পরিচালিত ২ টি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশ সরকারকে আয়কর ভ্যাট, ট্যাক্স দিয়ে শুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গত ৬/০১/২০২২ তারিখে বেনাপোল বন্দরের ২২ নং শেড থেকে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের শুল্কায়ন গ্রুপ ৫ এর রাজস্ব কর্মকর্তা (চঃদাঃ) মোঃ হান্নান মিয়া ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আজিজিয়া সুলতানা এর স্বাক্ষরে ১৫০ প্যাকেজ সাব-মারসিবল পাম্প (এপিআই) শাহজালাল নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে এলসি এর মূল কাগজপত্র ছাড়াই জাল পেপারস এর মাধ্যমে পণ্য চালানটি খালাস করে দেয়। অমি ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোঃ আশরাফ হোসেন ঘটনা জানার পর বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার, বন্দর থানা, ব্যাংকসহ বিভিন্ন দপ্তরকে লিখিতভাবে অবহিত করেন এবং গত ০২/০২/২০২২ তারিখে বেনাপোল বন্দর থানায় একটি জিডি করেন। যার নং ৫৮। এ ব্যাপারে বিভিন্ন গণ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত ও প্রচারিত হওয়ার পর গত ০৩/০২/২০২২ তারিখে বেনাপোল বন্দর থানার এসআই মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং কেশবপুর থানা পুলিশ রাতে মেসার্স চৌধুরী ট্রেডার্স এর মালিক আনন্দ চৌধুরীর যশোরের কেশবপুর কালিবাড়ি রোডের দোকানে অভিযান চালিয়ে সি এ- এফ মেসার্স জামান এন্টারপ্রাইজ এর মালিক আসাদুজ্জামান মিন্টু ১০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্টাম্পে ৩৩ লাখ টাকার মালামাল ২২ লাখ টাকায় বিক্রি করার উদ্ধার করে। কাস্টমসের গড়িমশির কারণে থানায় এজাহার দেওয়া থাকলেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেনা।
এদিকে অমি ইন্টারন্যাশনালের মালিক আশরাফ হোসেন গত ২০/০৩/২০২২ তারিখে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিঃ খুলনা শাখায় ২০২১২১০১০৩৫৫ নং এল/সি এর বিপরীতে ১৯৪০০ ডলারের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে ২১/০৩/২০২২তারিখে অরিজিনাল ডকুমেন্টস গ্রহণ করেন এবং ওই পণ্য চালানটি পরবর্তী খালাশ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব না হওয়ায় ২৭/০৩/২০২২ তারিখে বেনাপোল কাস্টমস সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে তাঁর আমদানিকৃত পণ্যের বাজার মূল্যসহ ক্ষতি পূরণের সমূদয় অর্থ ফেরৎ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেন। গত ০৬/০৪/২০২২ তারিখে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার এর কার্যালয় বিষয়টি ব্যক্তিগত শুনানির জন্য উভয়কে চিঠি প্রদান করেন। কিন্তু আসাদুজ্জামান মিন্টু ঘটনা জানার পর থেকে পলাতক রয়েছে। অন্য সংশ্লিষ্ট সকলে শুনানিতে উপস্থিত হলেও চৌধুরী ট্রেডার্স এর মালিক আনন্দ চৌধুরী তিনবারই অনুপস্থিত থাকে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কাস্টমসের একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তাঁরা জানান একটা জালিয়াতি চক্রের গোপন ষড়যন্ত্রে এ ঘটনা ঘটানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। বন্দরের ভেতরের ও বাইরের যেই জড়িত থাকুক না কেন, প্রকৃত অপরাধী ধরা পড়বে।