খুলনার রূপসায় দোকান বাকীর পাওনা টাকা চাওয়ার জের ধরে ছুরিকাঘাতে হৃদয় শেখ (১৯) নামের এক যুবক নিহত ও দুইজন আহত হয়েছে। আহতরা হলো বাগমারা গ্রামের মৃত আবুল কালাম সরদারের ছেলে মিঠু (২২) ও বাগমারা আদর্শ গলির ফল ব্যবসায়ী আফসার শেখ এর ছেলে নাজমুল শেখ (২২)। ২০ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে পূর্ব রূপসা বাসস্ট্যান্ড পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এঘটনা ঘটে। আহত মিঠু খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও নাজমুলকে রূপসার স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়ার পর স্থানীয় ফাঁড়ি পুলিশ তার বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাগমারা গ্রামের মীর বাড়ির মৃত আবুল কালাম সরদারের ছেলে মিঠু সরদার ও তার খালাতো ভাই হারুন শেখ এর ছেলে হৃদয় শেখ পূর্ব রূপসা বাসস্ট্যান্ড পুলিশ ফাঁড়ির সামনে চায়ের দোকানদারি করে আসছিলো। গত কয়েক মাস ধরে পূর্ব রূপসা বাজারের আড্ডা গলির চোর হিসেবে চিহ্নিত মৃত পলাশের ছেলে হৃদয় ও অন্তর মিঠুর দোকানে বাকিতে চা ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী খায়। ২০ এপ্রিল দুপুরে মিঠু, হৃদয় ও অন্তরের নিকট পাওনা টাকা চাইলে উভয়ের মধ্যে বাক-বিতন্ডা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে ইফতারির পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে হৃদয় ও অন্তরসহ ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দোকানে এসে মিঠুকে মারপিটসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এ সময় মিঠুকে তাদের কবল থেকে রক্ষা করতে তার খালাতো ভাই হৃদয় শেখ এগিয়ে গেলে তার বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় সঙ্গবদ্ধ দলটি। এ সময় নাজমুল প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়। পরে হৃদয়ের পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় আহত মিঠু ও হৃদয়কে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হৃদয়কে মৃত বলে ঘোষণা করে। এ ছাড়া নাজমুলের পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে রূপসার একটি স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করে। খবর পেয়ে রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ সরদার মোর্শারফ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ আহত নাজমুল সহ তিনজনকে জিজ্ঞসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিলো।