খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সর্বত্র চলছে রকমারী মাদকের রমরমা ব্যবসা। পাড়া, মহল্লা,মাঠ-ঘাটে, বনে-জঙ্গলে, শিশু-কিশোর থেকে সব বয়সী সব শ্রেণির মানুষ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ছে। মহিলারাও পিছিয়ে নেই।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, দিঘলিয়া উপজেলায় যারা মাদক ব্যবসা করছে তারা অনেকেই নতুন এবং এলাকায় কুখ্যাত অপরাধী ও প্রভাবশালী। এলাকাভিত্তিক তাদের রয়েছে নানা সেন্ডকেট ও পৃষ্ঠপোষক। যে কাণে সাধারণ মানুষ তাদের কাছে জিম্মি। তদের এহেন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস করেনা। এ সকল সীমাবদ্ধতার কারণে আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারে না। নানা সূত্রে জানা গেছে, দিঘলিয়ার অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক, সামাজিক ও সন্মানীয় ব্যক্তিবর্গের সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনেরা ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজা বিক্রি করছে। অল্প পুঁজি বিনিয়োগে বেশী মুনাফার কারণে দিঘলিয়ার প্রত্যন্তাঞ্চলে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ব্যবসায়ী তৈরি হচ্ছে।
অপর এক সূত্র জানায়, দিঘলিয়া উপজেলার পুরাতণ মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার কৌশল পরিবর্তন করে মাদকের হোম ডেলিভারি করছে। মাদকের হোম ডেলিভারিতে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশু ও বাড়ির মহিলাদের।দিঘলিয়া থানার এক কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান দেয়াড়া কলোনি হলো নানা অপরাধ কর্মকান্ডের সূতিকাগার। এই কলোনীই হচ্ছে মাদক আমদানি ও পাচারের অন্যতম রুট। এই কলোনি খেয়াঘাট পার হলেই দৌলতপুর রেলস্টেশন। আর সকল মাদকের বড় বড় চালান ট্রেনে করে এনে দেয়াড়া কলোনি খেয়াঘাট পার করা হয় বলে সূত্র জানায়।
দিঘলিয়ায় একদিকে যেমন মাদকের আমদানি ও কেনাবেচা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে অপর দিকে এ এলাকায় চুরি, ধর্ষণ ও কিশোর গ্যাংয়ের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বিস্তার লাভ করছে। সম্প্রতি দিঘলিয়া উপজেলা আ'লীগের সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা জেলা পরিষদ সদস্য মোল্লা আকরাম হোসেনের বাড়িতে তালা ভেঙ্গে দুর্র্ধষ চুরি সংঘটিত হয়েছে যার কোনো কিনারা করতে পারেনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সম্প্রতি দেয়াড়া জ্ঞানীর মোড় এলাকার ষষ্ঠ শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। কেউ কেউ এ সকল মাদক ব্যবসায়ীদের ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের অপতৎপরতায় মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের উপস্থিতিতে জনৈক মহিলাকে দা নিয়ে কুপাতে গিয়ে পুলিশের হাতে দা সহ গ্রেফতার হয়েছে। প্রায়ই এ থানা এলাকায় চুরি হচ্ছে। বিজ্ঞমহলের অভিমত এই মাদকের অবাধ আমদানি ও কেনাবেচা বন্ধ করা গেলে নানা সামাজিক অপরাধও কমবে। মাদকের ভয়াবহতা রোধে দিঘলিয়া থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশ যৌথভাবে গণসচেতনতা সৃষ্টি ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষে মহল্লায় মহল্লায় উঠান বৈঠক করছে।দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আহসান উল্লাহ চৌধুরী এ প্রতিবেদককে জানান, গত মাসে দিঘলিয়া থানায় ৯ টি মাদকের মামলা রুজু করা হয়েছে। যার ৮ টি মামলা দিঘলিয়া থানার ও একটি মামলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। এলাকাবাসী ও পুলিশের সূত্র জানায়, মাদক বিক্রেতাদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলেও আইনের ফাঁক ফোঁকরে বের হয়ে এসে দ্বিগুণ উৎসাহে পুণরায় মাদক আমদানি ও কেনাবেচা করছে। আর দিঘলিয়া উপজেলায় মাদকের ভয়াবহতা এতোই বেশী যে যুব সমাজ মাদক সেবনে পারিবারিক কলহ ও পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন হচ্ছে। সন্তান পিতা-মাতার অবাধ্য হয়ে পড়ছে। এদিকে দিঘলিয়া উপজেলার সর্বত্র নানা প্রকার মাদকের চারদিকে রমরমা ব্যবসা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লেও আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা অজ্ঞাত কারণে নিরব দর্শকের ভূমিকায়।