খুলনার পাইকগাছায় বহুল আলোচিত মিনহাজ বদ্ধ নদীর পানি উঠানোকে কেন্দ্র করে কৃষক ও মৎস্যচাষী মুখোমুখি অবস্থান করছে। এক ধরনের সংকট তৈরী হয়েছে। মৎস্যচাষী ইজারাদারা স্লুইচ গেট দিয়ে পানি উত্তোলন করতে চায়। আবার কৃষি ফসল নষ্ট হবে এমন আশঙ্কায় পানি উঠানো বন্ধ করার পক্ষে রয়েছেন ধান, তরমুজ ও সবজী চাষী। সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের লক্ষে সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা। উপজেলার গড়ইখালী, লস্কর ও চাঁদখালী ইউনিয়নের সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত এলাকার ঐতিহ্যবাহী মিনহাজ বদ্ধ নদী। ২৫২একর আয়তনের এ নদী দিয়ে এক দিকে যেমন বেশ তিন ইউনিয়নের পানি নিস্কাষিত হয়, ঠিক তেমনি নদীর পানি দিয়ে কৃষি ফসল উৎপাদন ও মৎস্যচাষ করেন এলাকাবাসী। বদ্ধ নদীটি ৬ বছরের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। ২৫ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা বার্ষিক হারে এলাকার বন্ধন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি জলমহলটি ইজারা নিয়েছে। ইজারার মেয়াদ আগামী ২বছর বহাল রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতেই গোটা উপজেলায় লবণপানি উত্তোলন বন্ধ রাখার ঘোষণায় মিনহাজ নদীর স্লুইচ গেটটিও বন্ধ রাখা হয়। সমসাময়িক সময় উপজেলার প্রায় সিমান্ত এলাকায় লবণপানি উত্তোলন করার মাধ্যমে চিংড়িচাষ পুরোদমে শুরু হওয়ায় অন্যান্য এলাকার ন্যায় মিনহাজ নদীতে পানি উত্তোলন করতে চায় মৎস্যজীবী সমিতি ও চিংড়িচাষীরা। গেটটি বন্ধ থাকায় নদীটি প্রায় শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে জানিয়েছেন অহেদুজ্জামান খোকন। অপরদিকে এলাকার অনেকের দাবী এই মূহুর্তে স্লুইচ গেট দিয়ে পানি উত্তোলন করলে নদীর ধারের কৃষি ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কয়েকজন কৃষক জানান, এখন নদীতে পানি তুললে আমাদের ঘর-বাড়ি তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এই মূহুর্তে নদীটি খনন করা জরুরী হয়ে পড়েছে। গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আবদুস ছালাম কেরু বলেন, সেচ সুবিধা পেয়ে ইউনিয়নের মানুষ কৃষিতে যে সাফল্য অর্জন করেছেন তা অবিশ্বাস্য। জমি আবাদ করে কৃষক নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করেছেন। আগে জমিগুলো পড়ে থাকত। এখন আবাদ করে তারা স্বাবলম্বী হয়েছেন। লস্কর ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন জানান, কে পানি তুলবে আর কে তুলবে না এটা দেখভাল করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার জনস্বার্থকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাজু হাওলাদার জানান, শনিবার সরেজমিন পরিদর্শন করে নদীর আশে পাশের সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর মতামত নিয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, নদীটির মুখে খননকাজ চালানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই খনন করার কথা বলব।