বাংলাদেশ যেমন বার বার আন্দোলন ও সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ পেয়েছে। আর বড় বিজয় ও পাওয়াকে সার্থক করেছে এদেশের দামাল ছেলেরা। তারা সেদিন জেগে উঠেছিল, দীপ্ত কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল মুক্তির জয়গান।
তদ্রুপ আজ দিঘলিয়ার যুবক শ্রেণী সদা জাগ্রত ভূমিকায় বেরিয়ে পড়েছে রাস্তায়। তাদের মনে আজ কঠিন ভীষন ও মিশন।
দীঘল দ্বীপ দিঘলিয়ার তরুন সমাজ জেগে উঠেছে এক নতুন প্রত্যয় নিয়ে। আর সেটা হলো নিজেদেরকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে গড়ে তোলা। পাশাপাশি দিঘলিয়ার সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে এদেশের মুক্তি পাগল দামাল ছেলেদের ন্যায় সমাজে ছড়িয়ে পড়া। মানুষের মধ্য হতে অভাবী ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের খুঁজে বের করে তাদের শ্রেণী ভেদে সমস্যার সমাধান করা। এ যেনো এক জাগ্রত জনতার বিকশিত প্রতিভার স্ফূরণ। দেশ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার উন্মেষ ঘটছে। তাদেরকে আর কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।
তাদের মিশন ও ভীষনঃ অসুস্থদের বিনামূল্যে রক্তদান, পাড়ায় মহল্লায় ঘুরে ঘুরে অসহায়দের মাঝে বিনামুল্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, অসহায় দারিদ্র্য ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বই বিতরণ, মসজিদ মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে কোরআন হাদিস ও নগদ অর্থ সাহায্য প্রদান। জলবায়ু মোকাবেলায় বৃক্ষরোপন সামাজিক বনায়ন, ঘরে ঘরে গনসচেতনাতা বৃদ্ধি, ডেঙ্গু মোকাবেলায় পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি, প্লাষ্টিক ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে দূষণ রোধে নানান কর্মসূচি, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ব্যাপক গনসচেতনতায় লিফলেট বিতরণ, মাঠে-ঘাটে, হাটে-বাজারে, পাড়া-মহল্লা হতে সকল তল্লাটে জীবানু নাশক স্প্রে, হ্যান্ড সানিটাইজার সামগ্রী বিতরণ, হাত ধোয়ায় উদ্বুদ্ধকরণসহ এ এক বিরাট কর্মযজ্ঞ। ঘুমন্ত বিবেক আজ দিন দিন জাগ্রত হচ্ছে। যেখানে একটি গোষ্টি নানান অপকর্মে জড়িত, মাদক সন্ত্রাস চাঁদাবাজি, অন্যায় অবিচারের মত পাপকর্মে। সেখানে তাদের প্রক্ষাপট একদমই ভিন্ন। তরুন সমাজ জাগতে শুরু করেছে, দীঘল দ্বীপ দিঘলিয়ায় হাতে গোনা ২/১ টি সংগঠন ছিলো। আজ সেটি বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়ে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিতে চলেছে।
অন্যকে দেখে অন্যান্যরাও উদ্ভুদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসছে সামাজিক কর্মযজ্ঞে।
মানবতা আজ উঠিছে জেগে। সামাজিক সংগঠন যত বাড়বে, ততই বাড়বে মানুষের সেবার পরিমাণ ও মান।
দেশ এগিয়ে যাবে।
আশ্চর্যের বিষয় হল যে বা যারাই সামাজিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছে তারা বেশিরভাগই বেকার এবং হতদরিদ্র, এদেররকে অনেক সচ্ছল ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিরা সাহায্য করলেও, বেশিরভাগ বিত্তশালীরা এগিয়ে না আসলেও, তাদের সাধ্যমত সেবা চলছে। কেউ আজ আর থেমে নেই। সংগঠন যত বাড়বে, ততই বাড়বে সেবার পরিমাণ। চাপ কমবে অন্যান্য সংগঠনের উপর। সংগঠনগুলোর দিকে লক্ষ্য করলেই স্পষ্ট বোঝা যায়, তারা কেউই অন্য কোন সংগঠনের সাথে প্রতিযোগিতা নয়, বরং পরস্পর পরস্পরের সাথে সহমর্মিতার মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি সেবার প্রতিযোগিতায় এক দূরন্ত যাত্রায় সামিল হয়েছে।
তারা সকলে আজ বুঝতে পারছে, এই জন্মভূমির প্রতি তাদের দায়বদ্ধতার কথা, তারা অনুভব করছে সে সমাজের কথা, যে সমাজ তাদের চলতে শিখিয়েছে, কথা বলতে শিখিয়েছে। এবং শিখিয়েছে বেঁচে থাকার রণ কৌশল। যে মাটি তার নির্জাস হতে তাদের প্রাণের খোরাক যুগিয়েছে, সেই মাটির প্রতি তাদের ঋণ শোধ করবার সময় হয়েছে। এরা কেউই আপনার কাছে করুনা ভিক্ষে চাইবে না, কোনো প্রতিদানও চাইবে না। চাইবে শুধু ভালবাসা ও দোয়া।
এরা জাতির সূর্য সন্তান। এরা এই জনপদবাসীদের কাছে বেঁচে থাকবে হাজারও বছর। আমরা গর্বীত যাঁরা এ সকল সন্তানদের গর্ভে ধারন করেছেন। আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?
তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে।
মহান প্রতিপালক সকলের কল্যাণ করুন, আমিন।