স্বামীর সংসার ছেড়ে বারবার না বলে স্ত্রী নুরজাহান (২২) চলে যান পিতার বাড়ি। সালিশী বসিয়ে পুত্র বধু নুরজাহানকে আনতে হয় সংসারে। ঘষে মাজে সব হয় কিন্তু সংসার হয়না এমনই অবস্থার শিকার শশুর ইখলাছুর রহমান।
এলাকাবাসী ও ইখলাছের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত তিন বছর আগে সেনহাটি এলাকার ইখলাছুর রহমানের পুত্র আরমানের সথে উত্তর চন্দনীমহলের মনির মোল্লার কন্যা নুরজাহানের বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই নুর জাহান স্বামীর সংসার ছেড়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে পিতার বাড়িতে চলে যান। সারা বছরই স্বামীর সংসার ত্যাগ করে পিতার বাড়িতে থাকেন। এ সকল ঘটনা নিয়ে একাধিকবার সালিশ বিচার বসিয়ে নুরজাহানকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে স্বামীর সংসারে পাঠানো হয়। গত বছরের দিকে নুরজাহান অন্তঃ সত্ত্বা হন। কিন্তু ৪ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা অবস্থায় তিনি অকারণে কাউকে জানিয়ে হঠাৎ করে পিতার বাড়িতে চলে যান। তিনি নিজ গর্ভের সন্তান নষ্ট করে ফেলেন। নুরজাহানের স্বামী আরমান ও শ্বশুর ইখলাছ ঘটনা জানার পর কন্যার পিতা মনির মোল্লার বাড়িতে সালিশ বসানো হয়। লোকজনের সামনে নুরজাহান তাঁর ভুলের জন্য শ্বশুর ইখলাছের নিকট ক্ষমা চান এবং লোকজনের কথা ফেলতে না পেরে শ্বশুরের সাথে বাড়িতে আসেন। কিছুদিন পর নুরজাহান পুণরায় অন্তঃসত্ত্বা হয়। অন্তঃসত্ত্বার ৭ মাস হলে তিনি কাউকে না জানিয়ে পুণরায় পিত্রালয়ে চলে যান। এর এক সপ্তাহ পরে গত ১৫/০২/২০২২ ইং রাত ৯ টার দিকে নুরজাহানের পরিবার থেকে মুঠোফোনে স্বামী আরমানকে জানানো হয় নুজাহানের অসুস্থতার কথা। আরমান সংবাদ শুনে শ্বশুর বাড়ি গিয়ে দেখতে পান তার স্ত্রী মৃত কন্যাসন্তান প্রসব করেছেন। এই সকল ঘটনাদৃষ্টে স্বামী আরমান ও তার পরিবারের সদস্যদের মনে নানা জিজ্ঞাসার জন্ম দেয়। এখানেই শেষ নয়। নুরজাহান কয়েক বার স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে পিত্রালয়ে গিয়ে স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গুম নাটকের অবতারণা করেন।
এ সকল নানা ঘটনা প্রবাহ শ্বশুর ইখলাছ ও তাঁর পরিবারের মনে সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রশ্ন। এ অবস্থা দেখে আরমান তাঁর স্ত্রীকে গত ৪/৪/২০২২ তারিখে তালাক দিয়েছেন বলে ইখলাছ ও নুরজাহানের মা নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে ইখলাছুর রহমান এ প্রতিবেদককে জানান, কয়েক বছরের নানা ঘটনা প্রবাহ দেখে মনে হয়েছে ঘষে মাজে জোর করে সংসার করানো যায় না। এতে বড় ধরণের বিপত্তি সৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও জানান, তাঁর পুত্র আরমান তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর থেকে কন্যার পিতা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পক্ষ থেকে নানা হুমকি-ধামকি ও মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ ব্যপারে নুরজাহানের মায়ের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন একটা মেয়েকে শ্বশুর বাড়ি দেওয়া হয় ঘরে রাখার জন্য নয়। দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। তার জন্য আমার মেয়েকে দায়ী করা ঠিক নয়। মেয়ে কেন মায়ের কাছে চলে আসে সেটাতো আরমান ও তার পিতা কখনো খোঁজ নিতে আসেনি। তারা আমার মেয়েকে তালাক দিয়েছে। আমরা আরমান ও আরমানের পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা করবো। সেনহাটি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মোল্লা আশরাফ হোসেন মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে আগে পিছের ঘটনার কথা জানিয়ে বলেন, তাদেরও অনেক ত্রুটি আছে। তাঁরা সমাধানে না এলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।