দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের মুজতখালী নদীর পাড় বর্তমানে ভূমি দস্যুদের হাতে জিম্মী হয়ে পড়েছে। কেউ মাটি কেটে পানের বরজের বাঁধ তৈরি করছে, কেউবা রাস্তা তৈরি করছে, কেউ কেউ মাটি কেটে বিভিন্ন এলাকার কুমারদের কাছে অথবা ইটের ভাটায় সরবরাহ করছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে ও সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানা যায়, দিঘলিয়া উপজেলার উত্তর কোল ঘেঁষে ভৈরব ও আতাই নদীর সংযোগ নদী হলো মজুতখালী নদী। এ নদীর পশ্চিম অংশের পাড় দিয়ে অবস্থিত অনেক পানের বরজ। এসব বরজের নদী পাড় উঁচু করে বাঁধ নির্মাণ করা হয় নদী চরের মাটি কেটে। কেউ কেউ ট্রলারে করে নদী পাড়ের মাটি কেটে নিয়ে পার্শ্ববর্তী ইটের ভাঁটা ও কুমোরদের কাছে বিক্রি করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে এই মুজতখালী নদীর তীর থেকে অবাধে মাটি কাঁটার কারণে এ এলাকায় নদী ভাঙ্গন সৃষ্টি হচ্ছে। এনদীর কয়েক জায়গায় গাছপালা ও সরকারি রাস্তার ইটের সোলিং ভেঙ্গে নদীর মাঝে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কোনো কোনো এলাকায় পূর্বের তৈরি বাঁধও ভেঙ্গে পড়তে দেখা গেছে। জনৈক ব্যক্তির তৈরি করা অবৈধভাবে জ্বালানি কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির কৃত্রিম একাধিক বন্ধ পড়ে থাকা চুল্লি দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মাহবুবুল আলম এক অভিযানে অবৈধ এ কয়লা চুল্লি বন্ধ করে দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, দিঘলিয়ায় এই অবৈধ জ্বালানি কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির কারখানা বন্ধ হলেও অভয়নগর উপজেলার ভৈরব নদীর পূর্ব ও দক্ষিণাংশে মজুতখালী নদী পাড়ে ও আতাই নদী পাড়ে গড়ে তোলা অনেক গুলো চুল্লিতে অবাধে জ্বালানি কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছে। অভয়নগর ও তেরোখাদা থানা পুলিশ এবং প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে নিরব দর্শকের ভূমিকায়। নদীর কূল থেকে মাটি কাটাও থেমে নেই। সূত্র থেকে জানা যায়, স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকার প্রভাবশালী মহলের গোপন পৃষ্ঠপোষকতায় এই অবৈধ কয়লা তৈরির কারখানা মাসের পর মাস চলে আসছে। খুলনা ও যশোরের আইন প্রয়োগকারী সকল সংস্থা অজ্ঞাত কারণে নিরব বলে এলাকাবাসী এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।