বীর বিক্রম শহীদ লেঃ আহসানুল হক ডিগ্রী কলেজ গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার স্টেডিয়ামে একটি মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে উপস্থাপন করে। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ লেঃ আহসানুল হক এর দেশের প্রতি আত্মোৎসর্গের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৮ মিনিটের এর ওই ডিসপ্লে পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেন তরুন নাট্যকার রাজা ফকির এবং কোরিওগ্রাফি করেন এটিডি এঞ্জেল।
বীর বিক্রম শহীদ লেঃ আহসানুল হক ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম আসাদুল হক বেলাল বলেন, তার ভাই শহীদ এ কে এম আহসানুল হক ১৯৫৫ সালে ১ ডিসেম্বর বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার কলসা রথবাড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৃত হাজী আনসার আলী। তিনি রাজশাহী ক্যাডেট স্কুল থেকে এসএসসি পরিক্ষায় রাজশাহী বোর্ডে ৭ ম স্থান অধিকার করেন। ঠিক সেই সময় তিনি মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর তিনি সেনা বাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালে ২ সেপ্টেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামের মাইন্দাছড়া গ্রামে রমজান মাসের সেহরির পর অতর্কিত হামলা করে একদল বিচ্ছিন্নতাবাদী। কমান্ডার আহসানুল হক এর নেতৃত্বে একটি ভয়াবহ সসস্ত্র যুদ্ধ সংগঠিত হয়। তিনি বলেছিলেন, "রাইফেলের একটি বুলেট অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী 'আত্মসমর্পণ' করতে জানে না। তিনি সহ মোট ৭ জন সে দিন ওই বন্দুক যুদ্ধে শহীদ হন। তাঁর এই অসীম সাহসী আত্মত্যাগের জন্যে বাংলাদেশ সরকারতাঁকে মরোনত্তর 'বীর বিক্রম' উপাধিতে ভূষিত করেন। সান্তাহার বীর বিক্রম শহীদ লেঃ আহসানুল হক ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেওয়ান আল আমিন বলেন, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে শহীদ লেঃ আহসানুল হক এর দেশের প্রতি আত্মোৎসর্গের ডিসপ্লেটি চমৎকার ভাবে অকুতোভয় বীর সেনার দেশ প্রেমের এই ঘটনাটি উঠে এবং যখন তাঁর কফিন রেখে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সসস্ত্র সালাম জানানো হচ্ছেছিল তখন উপস্থিত সকল দর্শকের চোখে অশু সিক্ত হয়ে ওঠে। বীর বিক্রম শহীদ লেঃ আহসানুল হক ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাসুদ রানা বলেন, ডিসপ্লেটি সান্তাহার স্টেডিয়াম মাঠে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথম স্থান অর্জন করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমরা কলেজের সবাই গর্ববোধ করি এবং ডিসপ্লে পরিকল্পনা ও নির্দেশনাকারী তরুন নাট্যকার রাজা ফকির কে ধন্যবাদ জানায় এত সুন্দর ডিসপ্লেটি তৈরী করার জন্য। আর সেই সাথে নতুন প্রজম্মকে শহীদ এ কে এম আহসানুল হকের ইতিহাস জানিয়ে দেওয়ার জন্য। এ বিষয়ে তরুন নাট্যকার রাজা ফকির বলেন, সারাদেশে স্কুল এবং কলেজগুলো সাধারণত একই রকম ডিসপ্লে প্রতি বছর উপস্থাপন করে। অথচ চাইলেই বৈচিত্রময় ডিসপ্লে নির্মান করা যায়। তাতে করে ছাত্র-ছাত্রীসহ স্থানীয় দর্শকরা নতুন নতুন অনেক ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত হতে পারে।