খুলনায় পাথর ছুঁড়ে ট্রেনের চালককে আহত করার অভিযোগে দুই মাদ্রাসা ছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ।
এলাকাবাসী ও রেল পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খুলনা রেল স্টেশন থেকে বেনাপোলগামী বেতনা এক্সপ্রেস কমিউটার ট্রেন যোগীপোলে পৌঁছালে বাইরে থেকে পাথর ছোঁড়ে ওই দুই শিক্ষার্থী। এ সময় পাথরের আঘাতে আহত হন ট্রেন চালক। এই ঘটনায় আটক দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। তারা যোগীপোল আদর্শ নুরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। আটককৃতরা হচ্ছে খানজাহান আলী থানাধীন যোগীপোল এলাকার আদর্শ নুরানীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার হেফজ শাখার শিক্ষার্থী ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার কামালদিয়া গ্রামের মোঃ রাকিব হোসেনের ছেলে মোঃ শামীমুল হোসেন সিয়াম (১৪) ও গোপালগঞ্জ জেলার কাজলিয়া গ্রামের কাজল শেখের ছেলে সাজ্জাত শেখ (১৩)।
খুলনা জিআরপি অফিসার ইনচার্জ মোল্লা খবীর আহমেদ বলেন এ প্রতিবেদককে জানান, খুলনা থেকে বেনাপোলগ্রামী বেতনা এক্সপ্রেস (বেনাপোল কমিউটার) সকাল পৌনে সাতটার দিকে খুলনা থেকে বেনাপোলের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সকাল সোয়া সাতটার দিকে ট্রেনটি খানজাহান আলী থানাধীন যোগীপোল মাদ্রাসার সামনে পৌঁছালে কে বা কারা ট্রেনকে লক্ষ্য করে কয়েকটি পাথর নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। পাথরের আঘাতে ট্রেনের চালক গাজী মারুফ আহত হয়। পাথরের আঘাতে তার ঠোঁট ও মুখ ফেটে রক্ত বের হয়। সাথে সাথে ট্রেন থামিয়ে দেন তিনি। এরপর রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাদ্রাসা ছাত্র সিয়াম ও সাজ্জাদকে আটক করে।
এ ঘটনায় খুলনা জিআরপির পুলিশ সুপার রবিউল হাসান তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তিনি বলেন, ট্রেন একটি নিরাপদ ভ্রমন ব্যবস্থা। যাত্রীদের কাছে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য মূলত পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটানো হয়। গত কয়েক মাস এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে একমাস যাবত এ ধরণের ঘটনা বেশী ঘটছে। আজকের এ ঘটনায় ওই দুই মাদ্রাসা ছাত্রের বিরুদ্ধে দেশের রেল আইন অনুযায়ী মামলা হবে বলে তিনি জানান।