খুলনার রূপসা ঘাটে ট্রলারে যাত্রী পারাপারের ভাড়া তিন টাকার পরিবর্তে পাঁচ টাকা ধার্য করার দাবিতে ১ এপ্রিল অর্ধ দিবস কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে ঘাট মাঝিরা। দাবি না মানলে পরবর্তীতে আরো বড় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে মাঝি সংঘের নেতৃবৃন্দ। ইতোমধ্যে তাদের এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক, রূপসা উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), নৈহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও খুলনা মহানগরীর ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত ওই আবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দ্রব্য মূল্যের উর্দ্ধগতি ও জীবন যাত্রার মান বাড়ার কারণে ৫/৭ বার জ¦ালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করলেও তারা কোন ভাড়া বৃদ্ধি করতে পারেনি। জ¦ালানি নির্ভর ইঞ্জিন চালিত নৌকা চালিয়ে ১৭৫ জন মাঝি সদস্য পরিবার-পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে একদিন পর একদিন সিএফটি চালিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছে। হঠাৎ সরকার জ¦ালানি তেলের দাম আরো এক দফা বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে খুচরা মূল্য প্রতি লিটার ৮৪ টাকা হওয়ায় ইঞ্জিন চালিত নৌকা চালানো দূরহ হয়ে পড়েছে। অপরদিকে মাঝি সংঘের সভাপতি রেজা ব্যাপারী ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ ব্যাপারী বলেন, জ¦ালানি তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধিতে সকল ধরণের পরিবহনের ভাড়া এবং বিভিন্ন পেশাজীবীদের বেতন ভাতা বাড়লেও রূপসা ঘাটে দীর্ঘকাল ধরে জন প্রতি তিন টাকা ভাড়া রয়ে গেছে। আমরা নীতিগতভাবে বিষয়টি সুরাহার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বারবার হস্তক্ষেপ কামনা করে ব্যর্থ হওয়ায় এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছি। দাবি না মানলে আগামীতে বৃহৎ কর্মসূচির ডাক দেয়া হবে। অপরদিকে সাধারণ যাত্রীদে মাঝে মিশ্রপ্রতিক্রীয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তেতে একন যাত্রী বলেন, এই ঘাট বাংলাদেশ একটি জনবহুল ঘাট ৫ সেকেন্টের ভিতরে ৩০/৩৫ যাত্রী হয়ে যায়। মাঝিদের দাবি সবকিছুর দাম দাম বেড়েছে ঠিক আছে। কিন্তু সেই তুলনায় এইঘাটে যাত্রী সংখ্যাও বেড়েছে প্রতিদিন প্রায় ৭০/৮০ হাজার লোক পাড়াপাড় হয়। ট্রলারের সংখ্যা ১০বছর আগেও যেকয়টি ছিল এখনো সেকয়টি আছে। কিন্তু প্রতিটি ট্রালালের খেপ বেড়েছে। সুতারাং তেল, আলকাতরা দাম বৃদ্ধি দেখিয়ে যাত্রী পাড়াপাড় ৫ টাকা করা এটা কোনো যৌক্তিক দ্বাবী বলে আমার কাছে মনে হয় না। আমাদেরকে দেখতে হবে এই ঘাটদিয়ে সব শ্রেণীর যাত্রী পাড়াপাড় হয়। নি¤œয় আয়ের লোকদের কথা আমাদের বিবেচনায় রাখা উচিৎ। তাছাড়া আমাদেরকে ঘাটেও টোলদিয়ে পাড়াপাড় হতে হয়। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি এড়া নির্ধারীত লোক নিয়ে তুষ্ট থাকেনা। এখন ভাড়া বাড়ানোর পায়তাড়া করছে। ভাড়া যদি বাড়ানো হয় তারপরেও প্রথম প্রথম কয়দিন নিদৃষ্ট পরিমান লোক নেবে। পরে আবার এড়া সুযোগ বুঝে যাত্রীর পরিমান বাড়িয়ে দেবে। অপরদিকে রাসেল নামের এক যাত্রী বলেন, মাঝিরা যদি যাত্রী সংখ্যা কম নিয়ে পারাপার করে তাহলে ভাড়া কিছুটা বাড়ানো ঠিক হবে।