ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা আবারও মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এনিয়ে টানা আটবার এই স্বীকৃতি অর্জন করল উপজেলাবাসী। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা সিনিয়ন মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়। মৎস্য চাষীরা মনে করেন গোটা উপজেলাবাসীর জন্য এটা অনেক বড় অর্জন। এ উপজেলায় মোট জনসংখ্যা এক লক্ষ ৩৫ হাজার ২১৫ জন। এই জনগোষ্টির বার্ষিক মাছের চাহিদা ৩৫৭৫ মেঃ টন।
৯৯.২৮ বর্গ কিলোমিটারের এই উপজেলায় নদী তিনটি, খাল তিনটি, বিল ১৩টি, প্লাবন ভ’মি৮ ও পুকুরের সংখ্যা ২০৮৭টি। এই জলাশয়ে ২০২০-২০২১ আর্থিক সালে মাছ উৎপাদন হয় ৪৭২০.০৬ মেঃ টন। উপজেলাবাসীর মাছের চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত থাকে ১১৪৫ মেঃ টন।
কিভাবে এই স্বীকৃতি অর্জন করল এমন প্রশ্নে জাবাবে উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১০৩০ জন এবং মৎস্য চাষীর সংখ্যা ২০১৬৭ জন। এখানকার মৎস্য চাষীরা বিগত আট বছরে মাছের চাষ রীতি মতো বিল্পব ঘটিয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি বছরই মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানকারক ব্যবসায়ি ও সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফোকরান আহামেদ খলিফা বলেন, প্রতিদিন গড়ে এ বন্দর দিয়ে প্রায় এক লাখ ডলারের মাছ ভারতে রপ্তানি করা হয়। রপ্তানি মাছের একটা বড় অংশ স্থানীয় মৎস্যজীবিরা যোগন দেয়। তাছাাড়া ভারতীয় ব্যবসায়িদের কাছে এখানকার মাছের চাহিদা অনেক বেশি। এ কারণে এ অঞ্চলে মাছের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার বলেন, তরুনরা এখন মাছ চাষ করেও স্বাবলম্বি হচ্ছে। এ ছাড়া বাজারে ব্যাপক চাহিদাও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে তিনি মনে করেন।