চারিপাশে অথৈ পানি, অথচ বছর জুড়ে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে ভূগতে হয় খুলনার উপকুলিয় উপজেলা দাকোপবাসীকে। বেসরকারী একটি সংস্থার বাস্তবায়িত বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন মানুষের খাওয়ার পানির চাহিদা কিছুটা পূরন হয়েছে, তেমনি পানি আপাখ্যাত রওশনারাদের মত অনেকের ভাগ্য বদলে গেছে।
সুন্দরবন ঘেষা দাকোপ উপজেলাটি চারিপাশে নদী বেষ্টিত। কিন্তু সে পানিতে লবনাক্ততার পরিমান এতটাই বেশী যে খাওয়াতো দূরে থাক, মানুষের নিত্যু প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার যোগ্য না। ফলে নিরুপায় হয়ে উপজেলাবাসীকে বর্ষা মৌসুম শেষ হলে শহর থেকে পানি কিনে জীবন বাঁচাতে হয়। দরীদ্র জনগোষ্টির একটি বড় অংশের আবার সেই সক্ষমতা নেই। বাধ্য হয়ে তারা লবনাক্ত দূষিত পানি খেয়ে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘকাল চলমান এমন জীবনধারা বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও সবুজ জলবায়ু তহবিলের যৌথ অর্থায়নে ইউএনডিপি’র কারিগরি সহযোগীতায় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত জিসিএ প্রকল্প। অবহেলিত নারী জনগোষ্টির জীবিকায়ন ও বিশুদ্ধ সুপেয় পানির সহজ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বেসরকারী সংস্থা দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে বদলে গেছে সুতারখালীর স্বামী পরিত্যাক্তা রওশনারার মত বহু নারীর জীবনধারা। উচ্চমাধ্যমিকপাশ রওশনারা বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে স্বামীর ঘরে যায়। কিন্তু যৌতুকের বলি হয়ে ফিরতে হয় মৃতঃ বাবার ভিটে। অভাবের তাড়নায় জীবন যখন অচল প্রায় তখনই ওই প্রকল্পে হয় কর্মসংস্থান। আর্থিক দৈন্যতার পাশাপাশি বদলে গেছে তার নাম। সকলের কাছে রওশনারা এখন অতিপ্রিয় পানি আপা। জানা যায় ওই প্রকল্পের মাধ্যমে দাকোপে ৯৮০টি বসত ভিটে কেন্দ্রিক বৃষ্টির পানি সংরক্ষন ট্যাংকি স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহায়তায় ৫২টি পাড়া এবং পুকুর ভিত্তিক সুপেয় পানির উৎস্য স্থাপনার কাজ চলছে। ওই স্থাপনা এবং পানির ট্যাংকি গুলো সচল রাখতে ওয়ার্ড ভিত্তিক ১ জন করে নারী উদ্যোক্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রওশনারা তাদেরই একজন। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষন নিয়ে পানি আপারা নির্দিষ্ট মজুরী গ্রহন করে মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে ওই সকল পানির উৎস্য গুলো সচল পরিচ্ছন্ন পাইপ ফিটিংস এবং পানির গুনগত মান ঠিক রাখতে বিশেষ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এই কর্মসংস্থান বদলে দিয়েছে রওশনারার জীবন। ছোট বোনের লেখাপড়া মায়ের দায়িত্ব সবই বহন করছে সে।