যশোরের ঝিকরগাছায় ইরি-বোরো চাষে কৃষকদের কাছ থেকে সেচ ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার অর্ধশত কৃষক প্রতিকার চেয়ে সেচ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর গণস্বাক্ষর দাখিল করেছেন।
কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় সেচের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গঙ্গানন্দপুর, শিমুলিয়া, গদখালী, পানিসারা ও নির্বাসখোলা ইউনিয়নে বৈদ্যুতিক অগভীর নলকূপে ১৫শ' থেকে ২১শ' টাকা, গভীর নলকূপের ক্ষেত্রে ১২শ'-১৬শ' টাকা। মাগুরা, হাজিরবাগ, শংকরপুর ও পৌরসভায় অগভীর নলকূপে ১৬শ'-২২শ' টাকা, গভীর নলকূপে ১৪শ'-১৮শ' টাকা।
ঝিকরগাছা সদর, বাঁকড়া ও নাভারণ ইউনিয়নে অগভীর নলকূপে ১৭শ'-২৩শ' টাকা এবং গভীর নলকূপের ক্ষেত্রে ১৫শ'-২ হাজার টাকা। এ ছাড়া এ মৌসুমে প্রতিবিঘা ধান চাষে ডিজেল চালিত গভীর, অগভীর নলকূপ ও এলএলপি নলকূপের ক্ষেত্রেও সরকারিভাবে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
সেচ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুবুল হক বলেন - ইতোপূর্বে পানি সেচের মূল্য নির্ধারণ করা ছিলো না। আমি কৃষকদের মূল্য নির্ধারণ করেছি এবং ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করেছি।
সেচ কমিটির সদস্য সচিব সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানা বলেন - কৃষকদের কাছ থেকে কোন স্কীম ম্যানেজার, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি টাকা আদায় করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অথচ অভিযোগ উঠেছে, নাভারন ইউনিয়নের উত্তর দেউলী গ্রামের আনোয়ার বিশ্বাসের ছেলে আবদুস সামাদ অগভীর নলকূপে বিঘাপ্রতি ৪ /৫ হাজার টাকা আদায় করেছেন।
হাজিরবাগের সোনাকুড় গ্রামের কৃষক লোকমান হুসাইন বলেন, গভীর নলকূপ থেকে পানি নিয়ে এবারও প্রতিবিঘা ৩ হাজার টাকার বেশি দিতে হবে। সেচের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে কিছুই জানি না। বিষয়টি ব্যাপক প্রচার হওয়া উচিৎ।
সেচ ব্যবসায়ী আবদুল কুদ্দুস ৩ হাজার টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আগের দিন উপজেলায় ট্রেনিং করে আসলাম কিন্তু পানির দামের বিষয়ে তো কিছু বললো না। এ পর্যন্ত কোনো মাইকিংও শুনিনি।
নাভারণ ইউনিয়নের কলাগাছি গ্রামের আবদুল মালেক বলেন, পানির দাম বিঘাপ্রতি সাড়ে ৪ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। আবু তালেব বলেন, ডিজেল চালিত অগভীর নলকূপের পানি নিয়ে বিঘায় ৬ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে।
এদিকে সোমবার সরকারি নির্ধারিত সেচের মূল্য বাস্তবায়নের দাবীতে অর্ধশত কৃষকের গণস্বাক্ষর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সেচ কমিটির সভাপতি বরাবর দাখিল করেছেন বলে জানিয়েছেন কলাগাছি গ্রামের আবদুস সামাদ।