যশোরের শিল্প ও বাণিজ্য শহর নওয়াপাড়ায় দুইজন রেস্তোরাঁ শ্রমিকের উপর হামলার প্রতিবাদে রোববার (১৩ মার্চ) দ্বিতীয় দিনের মত কর্মবিরতি পালন করছে শ্রমিকরা। রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে হোটেল মালিকরা। দুভোর্গে পড়েছে জনসাধারণ।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ একজন আসামিকে আটক করেছে। বাকি আসামি আটক না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিকরা।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজীব ও রুবেল নামে স্থানীয় দুই যুবক সাতক্ষীরা প্লাস হোটেলে খেতে আসে। খাবার দিতে দেরি হলে তারা উত্তেজিত হয়ে হুমকি দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরই জের ধরে শুক্রবার দুপুরে রাজীব, রুবেল, রাসেল, সাকিবসহ ৩-৪ অজ্ঞাত যুবক সাতক্ষীরা প্লাস হোটেলের ম্যানেজার ইমদাদ ও কর্মচারী রিপন গাজীকে মারপিট করে পালিয়ে যায়। ঘটনার প্রতিবাদে ও হামলাকারীদের আটকের দাবিতে শনিবার (১২ মার্চ) সকাল থেকে রেস্তোরাঁ শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করে। রোববার সন্ত্রাসীদের আটক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপী দিয়েছে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। শ্রমিকদের দ্বিতীয় দিনও কর্মবিরতি অব্যাহত আছে।
রোববার (১৩ মার্চ) শ্রমিকদের কর্মবিরতি পালনে চরম বিপাকে পড়েছে রেস্তোরাঁ মালিকরা। এ ব্যাপারে অভয়নগর হোটেল রেস্তোরাঁ ও মিষ্টান্ন মালিক সমিতির সভাপতি লিটন ঘোষ বলেন, ‘শ্রমিকরা কাজে না আসায় হোটেল রেস্তোরাঁ ও মিষ্টান্ন ভান্ডারগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছে। বন্ধ রাখার কারণে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জনসাধারণ।’
রোববার সরেজমিনে নওয়াপাড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রেস্তোরাঁ ও মিষ্টান্ন ভান্ডারগুলোর বন্ধ রয়েছে। রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় ক্রেতারা ফিরে যাচ্ছে। কুষ্টিয়া থেকে নওয়াপাড়ায় কয়লা কিনতে আসা ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান বলেন, রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় আমার মত অনেকে দুর্ভোগে পড়ছে। চা বিস্কুট খেয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
অভয়নগর হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টান্ন বেকারী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক রিপন গাজি মুঠোফোনে বলেন, মামলার প্রধান আসামি রাজীবকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে আমরা রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। বাকি আসামিদের আটক না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ একেএম শামীম হাসান বলেন, ‘সাতক্ষীরা প্লাস হোটেলের ম্যানেজার ইমদাদুল ইসলাম ও কর্মচারী রিপন গাজীকে মারপিটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার আসামি উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের আবু তালেব শেখের ছেলে আবদুর সালাম রাজীবকে আটক করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।