ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নির্ধারিত জুতা না পরায় ৬ষ্ঠ ও দশম শ্রেণীর কক্ষ থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীীকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৫ মার্চ) সকাল ৯ টার দিকে পৌরশহরের নাছরীন নবী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
পরে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করলে কিছু সংখ্যাক শিক্ষার্থীকে ক্লাসে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলের ক্লাস রুমে প্রবেশ করতে হলে শিক্ষার্থীদেও ড্রেস ও জুতা চেক করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় সবার নির্ধরিত ক্লাস ড্রেস থাকলেও অনেকের জুতা ছিলো বিভিন্ন রঙের। আবার কেউ কেউ স্যান্ডেল পরেও আসে। তাদের বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বনিক ও তার স্ত্রী শিখা রানী বনিক। এতে অপমান বোধ করে অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি গিয়ে কান্নাকাটি করলে তাদের অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ স্কুল গেইটে গিয়ে প্রতিবাদ করলে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ক্লাসে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছেমতো সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ওনি আর ওনার স্ত্রী মিলে যে সিদ্ধান্ত নিবেন সবাইকে তা মানতে হবে। তাদের মধ্যে মানবিকতা বলে কিছু নেই। এর আগেও দূর্নীতি ও অর্থ কেলেঙ্কারির কারণে তার বেতনভাতা বন্ধ ছিল।
পৌরশহরের নারায়ণপুর গ্রামের মোঃ আনিসুর রহমান নামে এক অভিভাবক ফোনে জানান, আমার মেয়ে বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করলে আমি তার স্কুলে গিয়ে বিষয়টির প্রতিবাদ জানায়। পরে তাকে ক্লাসে নিয়ে বসায়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন এই করোনাকালে প্রধান শিক্ষক মানবিক সব কিছু ভুলে গেছেন। রাধানগর সাহাপাড়ার দিপা সাহা নামের আরেক অভিভাবক বলেন, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ স্কুল ড্রেস ও নির্ধারিত জুতা না পরে কেউ ক্লাসে ঢুকতে পারবে না।
এ ব্যাপারে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বনিক বলেন, ক্লাসে স্কুল ড্রেস ও নির্ধারিত জুতা পরে আসার জন্য নোটিশ দেওয়া আছে। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তারপরও যারা নির্দেশ মানেনি তাদেরকে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে অর্ধশতাকি না ৮/৯ জন হবে হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তো মাত্র খুলল। এই সময়ে এত কঠোর হওয়া উচিত হয়নি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।