দিঘলিয়ার মানুষ নিজ প্রয়োজন মেটাতে তাদের পেশার পরিবর্তন আনছে। ধান চাষের পাশাপাশি তাঁরা মাছ চাষে ঝুঁকে পড়ছে।
দিঘলিয়ার প্রত্যন্তাঞ্চল ঘুরে ও দিঘলিয়া উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসন ও দিঘলিয়া মৎস্য দপ্তরের উৎসাহ, পৃষ্টপোষকতা ও প্রশিক্ষণ পেয়ে অনেক মানুষ মাছ চাষে এগিয়ে এসেছে। সাদা মাছের পাশাপাশি গলদা চিংড়ি মাছের চাষ পুরোদমে চলছে।
দিঘলিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, দিঘলিয়া উপজেলায় ছোট -বড় ১৬৬৪ জন মৎস্য চাষী মাছ চাষ করছেন। এদের মধ্যে ৭৫৫ জন গলদা চিংড়ি চাষী ও ১৬৪ জন মৎস্য প্রজনন খামারী রয়েছেন। দিঘলিয়ায় বর্তমানে ৭০৭৩ হেক্টর জলাবদ্ধ জমিতে বিভিন্ন জাতের মাছের চাষ চলছে। এসব মৎস্য খামার থেকে বছরে ৩৬৫২.৬৩ মে.টন বিভিন্ন জাতের মাছ উৎপাদন হয়ে থাকে।
দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন রকম জলাশয়ে ভিন্ন ভিন্ন জাতের মাছ চাষ হচ্ছে। সে কারণে দিঘলিয়ার মানুষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি খুলনা শহরসহ অন্যান্য অঞ্চলে মাছ সরবরাহ করা হয়।দিঘলিয়ায় গলদা চিংড়ি মাছের চাষ করা হয়েছে ৬৬১.৫৪ হেক্টর জমির জলাশয়ে। এজলাশয়ে গলদার উৎপাদন ধরা হয়েছে ৫০৬.৬ মে.টন এবং ঐ জলাশয়ে সাদা মাছের উৎপাদন ধরা হয়েছে ৫১০.৭১ মে.টন। বোরো পীটের পরিমাণ ১৩.৯৮ হেক্টর। মাছের উৎপাদন ধরা হয়েছে ৩৪.৫ মে.টন। পুকুর সংখ্যা ১৬১৬ টি। জলাশয়ের পরিমাপ ৫৯৬.৮ হেক্টর। মাছের উৎপাদন ধরা হয়েছে ৪৯৫৫.৩৯ মে.টন। রিভার ৩৪৭.৭৩ হেক্টর। মাছের উৎপাদন ধরা হয়েছে ইলিশ ১৭ মে.টন এবং অন্যান্য মাছ উৎপাদন ধরা হয়েছে ১১৯.৫ মে.টন। বিল এলাকার জলাশয় ২১.২৩ হেক্টর এবং মাছ উৎপাদন ধরা হয়েছে ১০ মে.টন। বিলান ৫৮.৯ হেক্টর জমিতে মাছ চাষ করা হয়েছে এবং উৎপাদন ধরা হয়েছে ২৮.৫ মে.টন। বন্যাকালীন জলাশয় ২৪১.৬৬ হেক্টর এবং মাছ উৎপাদন ধরা হয়েছে ১০৯০.৬ মে.টন এবং এই জলাশয়ে কুচে উৎপাদন হয় ০.২৫ মে.টন।
দিঘলিয়ায় মৎস্য চাষ সম্প্রসারণে কয়েকটি খাল ও মজা পুকুরের খনন কাজ করা হয়েছে। দিঘলিয়া মৎস্য দপ্তর ও দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে সারা বছর ইলিশ মাছসহ অন্যান্য মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানোর জন্য খালে, বিলে ও নদীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ কারেন্ট জাল,পাটা,মাছ ধরা অন্যান্য যন্ত্র আটক করা, মাছ ধরা লোকজনকে জরিমানা করা হয়েছে ও হচ্ছে। শুধু তাই নয় ইলিশের পোনা বা জাটকা নিধন ও বাজারজাত ঠেকানোর জন্য হাট-বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে ও হচ্ছে।
দিঘলিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, দিঘলিয়ার কৃষকরা ধান চাষের পাশাপাশি মাছ চাষে ঝুঁকে পড়েছে। তাই মাছ চাষের জমিও বাড়ছে, মাছের উৎপাদনও বাড়ছে। তাইতো সারা দেশে মাছের ক্রাইসিস টাইমে দিঘলিয়ায় মাছের আমদানি প্রচুর।
মাছ চাষীদের উৎসাহিত করার জন্য ঋণ কার্যক্রম চালু আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগে দেওয়া হতো। এখন আর দেওয়া হয় না। তবে তিনি জানান, সরকারি টাকা কৃষকদের মাঝে ৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিশোধ করতে চায়না।তিনি জানান, মাছ চাষীদের মাঝে মধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তিনি জানান, অবৈধভাবে নদীতে কারেন্ট জাল পাতা অবস্থায় জাল উদ্ধার করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। অনেককে অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পথে অন্তরায় সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে আমি ও দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসন সোচ্চার। তারা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন আইন অমান্যকারীকে শাস্তি পেতেই হবে ইনশাআল্লাহ।