খুলনার পাইকগাছায় ডিলার ব্যবসায়ী সারের দাম ইচ্ছে মত নির্ধারণ করছেন। উপজেলার কৃষক দুই পরিবারের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ডিলার ব্যবসায়ীরা কখন কি ভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধি করতে হবে তা ভালো করেই রপ্ত করেছেন। উপজেলার কপিলমুনি দুই পরিবার। টিএসপি সারের মূল্য তালিকা দেওয়া থাকলেও কোনো তোয়াক্কা করছে না দুই পরিবার। বস্তা প্রতি ৩ থেকে ৪ শত টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে কৃষকের। আর সব কিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দুটি বিশাল। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলিয়ে বিএডিসির ১১টি লাইসেন্স রয়েছে। যারমধ্য দুই পরিবারের রয়েছে সাতটি লাইসেন্স। কপিলমুনি বাজারে অবস্থিত মেসার্স খান ট্রেডার্সের ৩ টি ও পাল ট্রেডার্সের রয়েছে ৪টি। এছাড়াও লাভলু টেডার্স লতা ৩টি ও বিজ্ঞান ট্রেডার্স সাতবাড়ি ১টি। উপজেলায় সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ করে দুই পরিবারের ৭টি ডিলার। এক পরিবারের ৪ সদস্যর নামে ৪টি ও অপর পরিবারের ৩ সদস্যর তিনটি লাইসেন্স প্রাপ্ত মেসার্স খান ট্রেডার্স ও মেসার্স পাল ট্রেডার্স। যার কারণে সব কিছু চলে তাদের ইশারায়। দামের ব্যাপক গড়মিল ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ও মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সারে। প্রকাশ্য বেশি দামে বিক্রি করলেও তাদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা তো দুরের কথা বরং আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কৃষক দাম নিয়ে দর কষাকষি করলে সরকারি সার নেই বলে জানিয়ে দেন। আর যা আছে তা বিভিন্ন জায়গা থেকে কিনে আনা হয়েছে বলে জানিয়ে দেন। তাই বেশি দাম দিলে পাওয়া যাবে। কপিলমুনি বাজারে অবস্থিত ৪টি লাইসেন্স প্রাপ্ত পাল ট্রেডার্সে টিএসপি (কালো) সারের দাম বলেন, ১,৫৩০ টাকা, সাদা ১,৩২০ টাকা। আরো বলেন, আমরা কি করে কম দামে বিক্রি করবো? সব জায়গায় টাকা দিতে হয়। কথিত রয়েছে, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাকে মটরসাইকেল দিয়ে সব কিছু বৈধতা পেয়েছেন পাল ট্রেডার্স। তিনটি লাইসেন্স প্রাপ্ত মেসার্স খান ট্রেডার্সের মালিক মহসিন বলেন, টিএসপি (সাদা) ১,৩০০ টাকা রাখা যাবে। কালো ১,৫০০ টাকা। সরকারের দেওয়া দাম বৃদ্ধি কারণ জানতে চাইলে বলেন, সরকারি সার নেই। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন বলেন, ১ হাজার ৮০ টাকা দাম। সারের কোনো সংকট নেই। সরেজমিনে গিয়ে ও কৃষকদের অভিযোগে প্রকাশ, সারের দাম বেশি নেওয়া হলেও ডিলাররা কোনো রসিদ দিচ্ছেন না। কেউ কেউ রসিদ দিলেও তাতে সরকার নির্ধারিত দাম দেখাচ্ছেন। আবার কোনো কৃষক নিতান্তই না শুনলে সাদা বা বিভিন্ন কাগজে দাম লিখে দিচ্ছে। আবার বেশি দাম নিয়ে প্রতিবাদ করলে সার বিক্রি করবেন না জানিয়ে দিচ্ছেন। এমনকি কৃষকের কাছে বিক্রি করা সার কেড়ে নিয়ে রেখে দিচ্ছেন। ডিলারদের কাছে এভাবে জিম্মি হয়ে তাঁরা অসহায় হয়ে পড়েছে। ডিলারদের দাবি, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ার কারণে বাজারে সারের কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। তবে সরকার নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করছেন তাঁরা। কৃষকেরা বলছেন, সার কিনতে গেলে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা সংকটের কথা বলেন। তবে দাম বেশি দিলেই সার বিক্রি করছে। এ ছাড়া কিছুকিছু ডিলার দোকানে মূল্যতালিকা টাঙিয়ে রাখলেও সেই অনুযায়ী বিক্রি করছেন না। এমনকি সরকারি দরের রসিদ দিলেও বাড়তি দরের রসিদ দিচ্ছেন না। কপিলমুনিতে অবস্থিত খান ট্রেডার্স ও পাল ট্রেডার্স ডিলারে সরেজমিনে গিয়ে দাম বেশির সত্যতা পাওয়া যায়। পাইকগাছা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার প্রতি বস্তা (৫০ কেজির বস্তা) টিএসপি সারের খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮০ টাকা (২২ টাকা প্রতি কেজি), এমওপি প্রতি বস্তা ৭৫০ টাকা (১৫ টাকা কেজি), ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ও ইউরিয়া প্রতি বস্তা ৮০০ টাকা (১৬ টাকা কেজি) নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই দামের সাথে মিল নেই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন বলেন, বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম জানান, কৃষি অফিসারের সাথে কথা বলে জানলাম দোকানদার কমদাম চেয়েছে।