ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে আগুনের ঘটনায় মকবুল হোসেনের পরিবারের আর কেউ বেঁচে রইলো না। একে একে আগুনে পোড়ে মারা গেলেন স্কুল শিক্ষক মকবুল হোসেন (৪২), তার স্ত্রী রেখা বেগম (৩৫), বড় ছেলে আরিফ হোসেন জয় (১১) ও জুবায়ের হোসেন (৭), এর ফলে ওই পরিবারের আর কেউ বেঁচে রইলো না। এতগুলো েিলকা মারা গেছে। এনিয়ে এলাকায় চলছে শোকের মাতম।আশুগঞ্জের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দায় কে নেবে এ পশ্ন এখন আশুগঞ্জবাসীর।
পরিবারের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৩ বছরে আগে জেলার নবীনগরের রেখা বেগমকে বিয়ে করেন আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুরের সফর মিয়ার ছেলে মকবুল হোসেন। মকবুল ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউপি সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। পেশায় ছিলেন একজন সহকারী শিক্ষক। বিয়ের পর তাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। মকবুল দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে চরচারতলা ইউনিয়নের শরীয়তনগর এলাকায় মোহাম্মদ আলাই মিয়ার ৬তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবনের নিচতলার ভাড়া থাকতেন মকবুল হোসেন ও তার পরিবার
উল্লেখ্য যে, গত ২২ ফেব্্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে মকবুলের বড় ছেলে জয় মশার কয়েল ধরানোর জন্য দিয়াশলাই দিয়ে আগুন জ¦ালায়। এ সময় কিছু বুঝার আগেই মুহুর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে যায়। মকবুল হোসেন তখন রাতের খাবার খেতে বসেছিল। অগ্নিকান্ডের ফলে বাসার বিদ্যুৎ চলে যায়।এতে পুরো বাসা অন্ধকার হয়ে গেলে দরজা খুজে না পাওয়ায় তারা বের হতে পারেনি। ফলে বাসার ভেতরে তারা আটকে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মকবুলের ছোট ছেলে জুবায়ের মারা যায়। খবর পেয়ে আশুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টায় অন্তত ৪০মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে সরাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্বিস ঘটনাস্থলে আসে।ততক্ষনে আগুন নিয়ন্ত্রনে চলে আসে।পরে রাতেই মকবুল হোসেন ও তার পরিবারের আরো দুই সদস্যকে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকালে মকবুল হোসেন মৃত্যুবরণ করেন। এরপর রোববার সকালে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মকবুলেল বড় ছেলে জয় মৃত্যুবরণ করেন।
এর আগে মকবুলের স্ত্রীর গর্ভে থাকা সন্তানও মৃত্যুবরণ করে। সর্বশেষ সাতদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মকবুলের পরিবারের বেঁচে থাকা শেষ সদস্য সকবুলের স্ত্রী রেখাও মৃত্যুবরণ করে ২৮ ফেব্রুয়ারী রাত ১১টায়। এ ঘটনায় নিহত মকবুল হোসেন মা, বাদী হয়ে আশুগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের প্রস্ততি নিচ্ছেন।